প্রিয় মাংস খাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন মেসি

লিওনেল মেসি তাঁর খাদ্যাভ্যাস পাল্টেছেন বেশ আগেই। খাবার নিয়ে মেসি এখন যতটা সচেতন ক্যারিয়ারের শুরুতে তেমন ছিলেন না
টানা ১০ বছর ধরে গড়ে ৪০টি করে গোল করেছেন লিওনেল মেসি। চাট্টিখানি কথা নয়।

বয়স ত্রিশের কোটা টপকে গেছে আগেই। কিন্তু ৩১ বছর বয়সেও মেসির ফর্মে টান পড়ার কোনো আভাস নেই। এ মৌসুমেও ১১ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১১। ফিটনেস নিয়ে না খাটলে এমন ফল পাওয়া অসম্ভবই। বার্সেলোনা তারকা তা ভালো করেই জানেন। সে কারণেই তিনি নতুন করে পাল্টে ফেলেছেন তাঁর খাদ্যাভ্যাস।

মেসির প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুতে কোচরা অবশ্য কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে ফাস্ট ফুড আর কোমল পানীয় ভীষণ পছন্দ করতেন মেসি। এ নিয়ে বেশ মজার গল্পও আছে। মেসির খাদ্যাভ্যাস পাল্টাতে বেশ ভালো লড়াই করেছেন পেপ গার্দিওলা।

নু ক্যাম্পে বার্সার ড্রেসিং রুমের কাছাকাছি ড্রিংক মেশিন থাকায় গার্দিওলা একবার তা দূরে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন—মেসির জন্য। এ ছাড়া ২০০৮-০৯ মৌসুমে একটি টিম মিটিং চলার সময় তখনকার বার্সা কোচ গার্দিওলাকে মেসি জিজ্ঞেস করেছিলেন, একটা কোমল পানীয়ের ক্যান নিয়ে আসা যাবে কি না? গার্দিওলা পত্রপাঠ না করে দিয়েছিলেন।

কিন্তু সতীর্থদের চোখ ছানাবড়া করে মেসি পানীয়ের ক্যান নিয়ে এসেছিলেন কোচের কথা অমান্য করেই। এরপর সবার সামনেই তা পান করেছেন।

বার্সার সাবেক কোচ চার্লি রেক্সাসও একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘মেসি এত পিৎজা খেয়েছে যা তার উচিত হয়নি।’ কারণ মেসির ক্যারিয়ারের শুরুতে বেশির ভাগের দুশ্চিন্তা ছিল একটি ব্যাপার নিয়ে। তাঁর খাদ্যাভ্যাস। অপরিমিত ফাস্ট ফুড আর ড্রিংকসের জন্য ক্যারিয়ারের শেষ দিকে মেসি তাঁর ফর্মটা সেভাবে টানতে পারবেন না বলেই ভেবেছিলেন কোচরা।

নিজের এই বদঅভ্যাসটা পরে ধরতে পেরেছেন মেসি, ‘আঠারো কিংবা উনিশ বছর বয়সে আপনি যা খেতে পারবেন সাতাশ বছর বয়সে তা পারবেন না।’

মেসির খাদ্যাভ্যাস পাল্টানোর ব্যাপারে আগে ভূমিকা ছিল পুষ্টিবিদ গিউলিয়ানো পোজারের। এই মৌসুমের শুরুতে বার্সার নেতৃত্বভার পাওয়ার পর ইতালি গিয়ে পোজারের সঙ্গে আর দেখা করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন মেসি।

পোজারের মতে, অত্যধিক চিনিযুক্ত খাবার ও পরিশোধিত খাদ্যশস্য মাংসপেশির পুনর্গঠন আর ক্লান্তি দূর করতে তেমন সাহায্য করে না। ইতালিয়ান এই পুষ্টিবিদই মেসির নতুন খাদ্যতালিকা তৈরি করে দিয়েছিলেন—টাটকা ফল, শুকনো ফল, বাদাম আর জলপাই তেলযুক্ত সালাদ। ফাস্ট ফুড, পাস্তা কিংবা মাংস তাঁর খাদ্যতালিকায় ছিল না।

কোমল পানীয়তেও এসেছিল পরিবর্তন। ক্যানের কোমল পানীয় রেখে ক্যাফেইনযুক্ত দক্ষিণ আমেরিকান মেট-চা ধরেছিলেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর সতীর্থ মার্টিন ডেমিচেলিসের পরামর্শ নিয়ে পোজারের সঙ্গে এই খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। কিন্তু এখন বার্সার পুষ্টিবিদ মারিয়া আন্তোনিয়া লিজারাঙ্গা দাল্লোর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন মেসি।

তবে খাদ্যতালিকায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ম্যাচ শেষে শরীরের ধকল কাটাতে সালাদ ও সুশির সঙ্গে শুধু পাস্তা যোগ হয়েছে। এ ছাড়া মাছ আর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যোগ হয়েছে মেসির খাদ্যতালিকায়। ভ্রমণক্লান্তি কাটাতে পোজারের কাছে মেসি আর যান না বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। মেসির মতো খেলোয়াড়ের জন্য একটু সময় পাওয়া মানেই তো বিশ্রামের সুযোগ!