৫০ রান করার আগেই ৫ উইকেট নেই বাংলাদেশের!

সিলেটের উইকেটে ভূত ভর করেছে! নাকি ব্যাটসম্যানদের মনে? যে উইকেটে ব্যাটসম্যানদের শিকার করা কঠিনতম কাজ হওয়ার কথা, সেখানেই আজ দ্বিতীয় দিনে ৪০ রানের মধ্যে ৯ উইকেট পড়ে গেল এরই মধ্যে!

২১ রানে জিম্বাবুয়ের শেষ ৫ ব্যাটসম্যানকে তুলে এনে বাংলাদেশের বোলাররা যে দারুণভাবে শেষটা টেনেছিলেন, ১৯ রানে বাংলাদেশের ৪ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরে সেটিকেই বানিয়ে দিলেন ভয়াবহ। জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানের জবাবে বাংলাদেশ এখন ধুঁকছে, ৪৯ রানেই হারিয়েছে পঞ্চম উইকেট! এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ৭৪ রান। মুশফিক অপরাজিত ২৭ রানে, সঙ্গী আরিফুলের সংফ্রহ ৯।

লাঞ্চের আগের এক ওভারে বিনা উইকেট ২ রান তোলা বাংলাদেশ লাঞ্চের পর ১২ রান যোগ করতেই হারিয়েছে দুই ওপেনার ইমরুল ও লিটনকে। নাজমুল হোসেন শান্ত স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়ে ঠিক কয়েক বল পরে উইকেটের পেছনেই ক্যাচ দিলেন। টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া মাহমুদউল্লাহ ফিরলেন শূন্য রানে!

১৯ রানে বাংলাদেশের ৪ উইকেট নেই! চাতারার বলের জবাব যেন পাচ্ছে না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ৫ ওভারে ৩ শিকার তুলে ফেলেছেন এই পেসার। দুজন হয়েছেন প্লেড অন। দলকে মহা বিপর্যয়ে রেখে ১১ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন মুমিনুল। জিম্বাবুয়ের স্পিনারদের (সিকান্দার রাজা) প্রথম শিকার মুমিনুল।

এর আগে তাইজুলের বলের জবাব পাচ্ছিল না জিম্বাবুয়ে। ১০২ ওভার শেষেও স্কোরটা শক্তপোক্ত দেখাচ্ছিল। ৫ উইকেটে ২৬১। সেখান থেকে ১৫ ওভার ৩ বলের মধ্যে ২১ রান যোগ করতেই শেষ ৫ ব্যাটসম্যান হারিয়ে ফেলল জিম্বাবুয়ে। এর চারজনই তাইজুলের শিকার। আগের দিনের দুই মিলিয়ে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন এই স্পিনার।

১০৮ রান দিয়েছেন হয়তো, কিন্তু এও মনে রাখতে হবে, মূলত চার বোলার নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশকে পঞ্চম বোলারের শূন্যতা পূরণ করতে তাঁকেই সবচেয়ে বেশি চাপ নিতে হয়েছে। তাইজুল বল করেছেন ৩৯.৩ ওভার। পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি। ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেন।

দিনের প্রথম ১১ ওভার অবশ্য হতাশায় কেটেছে বাংলাদেশের । এ সময়ে গত দিনের স্কোরের সঙ্গে আরও ২৫ রান যোগ করেছেন পিটার মুর ও চাকাভা। ৬০ রানের ষষ্ঠ উইকেট থেমেছে তাইজুল ইসলামের সুবাদে। নাজমুল হোসেন শান্তর বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ২৮ রান করা চাকাভা। একটু পরেই ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে ফাঁদে ফেলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন তাইজুল। ওয়েলিংটনের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল উইকেটের পেছনে গেছে।

তিন ওভার পরেই নাজমুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন মাভুতা। ইনিংসের ১১৮তম ওভারে পরপর দুই বলে জার্ভিস ও চাতারা তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে শুধু অলআউট করে দেননি, পরের ইনিংস শুরু করবেন হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে।

জিম্বাবুয়ে খুব সহজেই ৩০০ পেরিয়ে যাবে মনে হচ্ছিল। পারেনি তাইজুলের কারণে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ইনিংসে ৮ উইকেট আছে তাঁর। আজ করলেন দ্বিতীয় সেরা বোলিং। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের লিড এনে দেওয়াটা দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তাইজুল যা করেছেন, এরপর লিড না এনে দিলে তা অন্যায়ই হবে! তবে শুরুটা দেখে তো ভরসা জাগছে না!


     আরও দেখুনঃ