প্যাড দেখাতে পোশাক খুলতে বাধ্য করলেন শিক্ষকরা!

প্রতিটি ছাত্রছাত্রীই শিক্ষকের কাছ থেকে নৈতিক শিক্ষা পেয়ে থাকে। কিন্তু কোনো শিক্ষক যদি নেতিবাচক আচরণ করেন, তাহলে তা শিক্ষার্থীর মানসিকতায় প্রভাব বিস্তার করে।

শিক্ষকের কাছ থেকে ছাত্রছাত্রীরা কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা গ্রহণ করে না, সেই সঙ্গে জীবন সম্পর্কেও শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে; তাতে যেমন জড়িয়ে থাকে নিয়ম-নীতি-নৈতিকতা, তেমনি থাকে সভ্যতা-ভব্যতা আর আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করার শিক্ষাও। কিন্তু কখনো কখনো কিছু শিক্ষকের মানসিকতা আর আচরণ বিস্মিত করে। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ভারতের পাঞ্জাবে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৩ নভেম্বর, শনিবার পাঞ্জাবের ফজিলকা জেলার সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের শৌচাগারে ব্যবহৃত স্যানিটারি প্যাড পড়ে থাকতে দেখার পর মেয়েদের জামা খুলে কার কার পিরিয়ড চলছে তা দেখাতে বাধ্য করেন।

ওই প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, শৌচাগারে ব্যবহৃত প্যাড পাওয়ার পরই শিক্ষকরা জানার চেষ্টা করেন কোন মেয়ের পিরিয়ড চলছে এবং কে কোন স্যানিটারি প্যাড পরে আছে। একপর্যায়ে তারা প্যাড দেখার ছাত্রীদের বাধ্য করেন পোশাক খুলতে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীরা কেঁদে কেঁদে জানায়, তিন দিন আগে কুন্ডাল গ্রামে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষকরা এই কাজে বাধ্য করেন তাদের।

ছাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবহৃত স্যানিটারি প্যাড যথাযথভাবে নষ্ট করার বিষয়ে মেয়েদের সচেতন করার পরিবর্তে শিক্ষকরা তাদের কাপড় খুলে দেখাতে বলার কথা জানতে পেরেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী সোমবারের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পাঞ্জাব সরকারের সরকারি মুখপাত্র জানান, মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষা দফতরের সচিবের কাছে ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ের চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন।


     আরও দেখুনঃ