আসামির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পুলিশের মারধর, মামলা

52

মেহেরপুরে ইজিবাইক ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলার আসামি মেহেদি হাসানকে ধরতে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে মেহেরপুরের আমলি আদালতে মারিয়া খাতুন নামের ওই নারী বাদী হয়ে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লস্কর লাজুল ইসলাম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মেহেদির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মেহেদির খোঁজে গতকাল মঙ্গলবার মেহেরপুর সদর থানার এসআই লস্করসহ তিন পুলিশ তাঁর পৌর এলাকার দীঘিরপাড়ার বাড়িতে যান। তাঁকে না পেয়ে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মারিয়াকে মারধর করেন সেই এসআই। এই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়ির আসবাব ভাঙচুর করে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান। পরে প্রতিবেশীরা মারিয়াকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেহেদির স্ত্রী মারিয়া খাতুনের দাবি, তাঁর স্বামীকে না পেয়ে এসআই লস্কর বাড়িতে থাকা মোটরসাইকেলের চাবি চান। তিনি চাবি দিতে না চাইলে তাঁর পেটে ওই পুলিশ কর্মকর্তা লাথি মারেন। তিনি এ সময় মাটিতে পড়ে যান। পরে পুলিশ তাদের ঘরের ভেতরের আসবাব ভাঙচুর করে। যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায় তারা। এসআই লস্কর বলে যান, টাকা নিয়ে গিয়ে মেহেদি যেন মোটরসাইকেল ফেরত নিয়ে আসেন।

আজ বিকেলে মুঠোফোনে মেহেদী হাসান বলেন, পৌর শহরের সোহেল ইসলামের একটি ইজিবাইক ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা আছে। সে কারণে পুলিশ গতকাল তাঁর বাড়িতে এমনটা করেছে। পুলিশের ভয়ে এখন তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

আনজিরা খাতুন নামের এক প্রতিবেশী বলেন, তিনজন পুলিশ মেহেদির বাড়ির ভেতরে ঢুকে সবকিছু ভাঙচুর করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে যায়। পুলিশ বলে প্রতিবেশীরা কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি।

জানতে চাইলে এসআই লস্কর লাজুল ইসলাম জিয়া বলেন, মেহেদিকে না পেয়ে তাঁর মোটরসাইকেলটি থানায় আনা হয়েছিল, যাতে করে তিনি থানায় হাজির হন। তা ছাড়া বাড়ির কোনো আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, মেহেদী হাসানের নামে ইজিবাইক ভাঙচুর ও চালক সোহেলকে মারধরের অভিযোগ আছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। যে এসআইকে পাঠানো হয়েছিল, তাঁর বিরুদ্ধে মেহেদির বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি পুলিশ সুপার তদন্ত করবেন।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এসআই লস্করের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামকে একটি তদন্ত কমিটির প্রধান করে ঘটনাটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুত্রঃ প্রথম আলো