চার জেলায় বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের হানা

29

দেশের চারটি জেলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে অভিযান চালায় সংস্থাটি।

অভিযানের সময় রেজিস্ট্রেশন সনদ, ফিটনেস সনদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিটি ধাপে বিপুল পরিমাণ অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।

দুদক জানায়, সংস্থার অভিযোগ কেন্দ্রে (১০৬) দেশের বিভিন্ন জেলার বিআরটিএ কার্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া, খুলনা, সিলেট ও পাবনা কার্যালয়ে দুদকের চারটি দল একযোগে আকস্মিক অভিযান চালায়।

বিআরটিএ’র ইকুরিয়া কার্যালয়ে অভিযানের সময় যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন সনদ, ফিটনেস সনদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের প্রতিটি ধাপে বিপুল পরিমাণ অনিয়মের প্রমাণ পায় দুদক। দুদক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে দালালেরা পালিয়ে গেলেও টাকাসহ হাতেনাতে এক দালালকে আটক করেন তারা। পরে ওই দালালকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

একইভাবে অভিযান চালানো হয় পাবনা বিআরটিএ অফিসে। সেখানে বিআরটিএ’র কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পায়নি তারা। খুলনা ও সিলেট কার্যালয়ে দুদকের দল দু’টি বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের চিত্র উদঘাটন করে।

এসব অভিযানে যানবাহন রেজিস্ট্রেশন এবং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ লাইন থাকলেও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে লাইন ভঙ্গ করে দ্রুত সেবা নেওয়া এবং ফিটনেস যাচাই না করেই গাড়ির ফিটনেস সনদ দেওয়ার চিত্র দেখা যায়। দুদকের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে সুশৃঙ্খল পরিবেশে গাড়ির ফিটনেস দেওয়া নিশ্চিত করা হয়।

অভিযান সম্পর্কে দুদক এনফোর্সমেন্ট দলের সমন্বয়ক ও সংস্থার মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘বিআরটিএর শৃঙ্খলা ফিরে না এলে দুদক সরাসরি দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নেবে।’