সিরিজ হার এড়াতে যা করতে হবে বাংলাদেশকে

77

সিরিজ হারা ঠেকাতে কী করতে হবে বাংলাদেশকে? সবচেয়ে সহজে উত্তর দিতে চাইলে তিন শ শব্দটা মাথায় ঢুকিয়ে ফেলতে হবে। আগে ব্যাট করলে তিন শ রানের কম করা যাবে না। আর প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নামলে নিউজিল্যান্ডকে যে কোনোভাবেই হোক বেঁধে রাখতে হবে তিন শর মধ্যে। ক্রাইস্টচার্চে ওয়ানডে ম্যাচ জেতার আর কোনো উপায় যে নেই।

হেগলি ওভালের এ মাঠ বাংলাদেশের জন্য অপরিচিত নয়। গত সফরেই এ মাঠেই সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। মাত্র ৪৫ ওভারে ২৬৪ রানও করেছিল সফরকারী দল। কিন্তু ২০১৬ সালে অমন মারকুটে ব্যাটিংও ব্যর্থ হয়েছিল সেদিন দুটি কারণে। প্রথমত, ইনিংসের ৩১ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ত প্রথমে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল প্রায় সাড়ে তিন শ ছোঁয়া। তাই ২৬৪ রান তোলার পরও বাংলাদেশ হারের ব্যবধানটা ৭৭ এর নিচে নামাতে পারেনি।

ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় ইনিংসে এর চেয়ে বেশি রান করেও হারের রেকর্ড আছে। ২০১৭ সালে ৯ উইকেটে ২৮৩ রান করে হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের এ ম্যাচটার একটি বিশেষত্ব আছে। ক্রাইস্টচার্চে পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে ম্যাচে সেবারই প্রথম ও শেষবারের মতো কোনো দল তিন শর নিচে লক্ষ্য দিয়ে পার পেয়েছিল। প্রথমে ব্যাট করে পাওয়া ২৮৯ রানের পুঁজিকেই জয়ের জন্য যথেষ্ট বানাতে পেরেছিল নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। আরেকবার বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ২৩ ওভারে ১৩১ রান তুলেই জয় নিশ্চিত করতে পেরেছিল স্বাগতিক দল। এ দুই ঘটনা বাদে এ মাঠে প্রথমে ব্যাট করে জয় পেতে ৩০০ রান করতেই হয়েছে দলগুলোকে।

ক্রাইস্টচার্চে ব্যাট করে সবচেয়ে বেশি রান করে হারার রেকর্ডটি দেখলেও তিন শর নিচে গুটিয়ে যেতে চাইবে না কেউ। ২০১৪ সালে প্রথমে ব্যাট করে ২৬০ রান তুলেছিল কেনিয়া। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল তাদের। ফলে জয়ের আশা করছিল দলটি। কিন্তু সে রানও তাড়া করে জিতেছিল স্কটল্যান্ড। অবশ্য এক সপ্তাহ আগেই এ মাঠের সর্বোচ্চ ৩৪১ রান তুলেছিল স্কটল্যান্ড। কানাডার বিপক্ষে সেদিন অবশ্য এ রান অপ্রয়োজনীয় ঠেকেছিল। সেদিন যে প্রতিপক্ষ মাত্র ১৭১ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল।

আগামীকাল ক্রাইস্টচার্চে তাই প্রথমে ব্যাট করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়েই নামতে হবে বাংলাদেশকে। ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি আর লকি ফার্গুসনের গোলার সামনে দাঁড়িয়েও বল প্রতি রান তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নেওয়ার ইচ্ছাও জাগতে পারে দলের।কিন্তু পরিসংখ্যান কিন্তু এ ব্যাপারে সতর্ক করছে। এ মাঠে পরে ব্যাট করে যে মাত্র পাঁচবারই জয় পেয়েছে দলগুলো। আর আটজন ব্যাটসম্যান নিয়ে নামতে চাওয়া কোনো দলের পক্ষে প্রথমে বল করাটাও কিন্তু কঠিন!