ভবিষ্যতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া আর কোনো সফর নয় : পাপন

27

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নুরে জঙ্গি হামলায় ৪০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় আক্রান্ত হতে পারতো বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররাও। ভাগ্য ভালো, আল্লাহর অশেষ রহমতের কারণেই ৫ মিনিটের হেরফেরে প্রাণে বেঁচে যান টাইগার ক্রিকেটাররা। অথচ, জানা গেছে ওই সময় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে একজন নিরাপত্তারক্ষীও ছিল না। ন্যুনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের জন্য। এমনকি ওই সময় ক্রিকেটারদের সঙ্গে লিঁয়াজো অফিসার পর্যন্ত ছিলেন না।

এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় বাংলাদেশ দল দেশের বাইরে সফর করতে যায়, এ বিষয়টা হয়তো আগে জানা ছিল না কারো। এবার ক্রাইস্টচার্চ ঘটনায় এ বিষয়টা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে আসলো সবার সামনে এবং চারদিক থেকেই দারুণ সমালোচনা তৈরি হয়েছে, কেন ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিসিবিও তাদের কাউন্টারপার্টদের সঙ্গে কথা বলে না। কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় না?

এসব বিষয় নিয়ে আজ নিজ বাসায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেখানে তিনি এর উত্তর দিয়েছেন এবং এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে যাতে বাংলাদেশ দলের আর কোনো সফর এমন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অনুষ্ঠিত না হয়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে বিদেশি দলগুলোর জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা সবার আগে উল্লেখ করেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের মাটিতে যে কোনো ক্রিকেট দলের সফরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। রীতিমত ভিভিআইপি মর্যাদা দেয়া হয় এবং যতটা নিশ্চিদ্র সম্ভব, ততটা নিশ্চিদ্র নিরাপত্তাই দেয়া হয়।’

বিদেশে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয় না বলেই স্বীকার করে নেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা বিদেশে গেলেও তা (সে ধরনের নিরাপত্তা) পাই না। এখন থেকে যে কোনো বিদেশ সফরে গেলে, বিশেষ করে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে বিসিবি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেট করে দেবে। মানদন্ড তৈরি করে দেবে। যদি সেই স্ট্যান্ডার্ডের নিরাপত্তা দেয়া না হয়, প্রয়োজনে আমরা সেই সফর বাতিল করবো কিংবা সিরিজই খেলতে যাবো না।’

অর্থ্যাৎ, বিসিবি এখন থেকে প্রতিটি সিরিজে একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার মানদন্ড নির্ধারণ করে দেবে প্রতিপক্ষ দেশকে এবং বিসিবি পরিস্কার জানিয়ে দেবে, আমাদের এই ধরনের নিরাপত্তা চাই। কেবলমাত্র সেই নিরাপত্তা পেলেই আগামীতে বাংলাদেশ দল কোনো দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাইরে যাবে, নচেত নয়।

খুব প্রাসঙ্গিকভাবে চলে আসে, সামনেই বিশ্বকাপ। সেখানে কি হবে? এ ক্ষেত্রে পাপনের কথা, ‘বিশ্বকাপে এমনিতেই আইসিসির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনি থাকে এবং আমার বিশ্বাস এই ঘটনার পর তা আরও জোরদার হবে।’ তারপরও পাপন বিশ্বকাপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুঁটিয়ে দেখার ইঙ্গিত দেন। একই সঙ্গে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ তা মনিটর রকবে।