বাকৃবিতে ভোগান্তির আরেক নাম ‘ফর্ম ফিলাপ’

Avatar
দৈনিক২৪ | অনলাইন নিউজ পোর্টাল
৬:০৩ পূর্বাহ্ণ, মে ২০, ২০১৯

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভোগান্তির আরেক নাম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ। দেশ ডিজিটাল হলেও এখনও মান্ধাতার আমলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এখানে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ভোগান্তি কমাতে অনলাইন ভিত্তিক ফর্মফিলাপ প্রক্রিয়া চালুর দাবি শিক্ষার্থীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফর্ম ফিলাপের জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রথমে ডিন অফিস বা উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা ভবন থেকে ফরম নিতে হয়। তারপর সেই ফরম পূরণ করে কোষাধ্যক্ষ অফিস থেকে টাকা জমা দেয়ার রশিদ নিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসারের স্বাক্ষর নিতে হয়। তারপর সেই রশিদ ও নির্ধারিত টাকা নিয়ে গিয়ে জমা দিতে হয় পূবালী ব্যাংকে। তারপর আবার কোষাধ্যক্ষ ভবন থেকে কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষর নিতে হয়। এরপর ফরম ও টাকা জমার রশিদ নিয়ে জমা দিতে হয় নিজ হলের অফিসে। হল অফিস থেকে প্রভোস্টের স্বাক্ষরকৃত ফরম দেয়া হলে তা ডিন অফিস বা নিজ ডিপার্টমেন্টে জমা দিতে হয়। এত বড় একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ হয় সেমিস্টার ফাইনালের ফর্ম ফিলাপ।

ফর্ম ফিলাপের সময় থাকে তিন-চার দিন৷ কিন্তু ফরম ফিলাপ চলাকালীন সময় শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ না থাকায় সব ছাত্রছাত্রীদের এই কাজ করতে হয় দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে। একসঙ্গে সকলে আসার ফলে কোষাধ্যক্ষ ভবন ও পূবালী ব্যাংকে প্রচণ্ড ভিড় হয়। এতে শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী অরণ্য সাদেকুর রহমান বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের, অফিসারদের এই বিষয়ে নজর দেয়া উচিত। সমাধানের অনেক পথ আছে। সবচেয়ে ভালো হয় অনলাইনের মাধ্যমে ফর্ম ফিলাপ এবং টাকা জমা নেয়ার ব্যবস্থা করা হলে। যদি ডিজিটালাইজেশন করতে দেরি হয়, তাহলে সব লেভেল, ফ্যাকাল্টির ফর্ম ফিলাপের জন্য মাত্র ২-৩ দিন না দিয়ে কমপক্ষে এক মাস সময় দেয়া উচিত।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান কামু বলেন, মাত্র ৬-৭ হাজার শিক্ষার্থীকে বাকৃবি প্রশাসন কি অটোমেশনের আওতাভুক্ত করতে পারে না? সারাদেশ যেখানে ডিজিটালাইজেশন হচ্ছে সেখানে শুধু প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবে আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ছাত্রদের ভোগান্তি কমানোর বিষয়টা আমাদের মাথায় আছে। ভবিষ্যতে যাতে ভোগান্তি না হয় সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব। আর অনলাইন ভিত্তিক ফরম ফিলাপ প্রক্রিয়া চালু করা যায় কিনা সে বিষয়ে আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here