মা হওয়ার উপযুক্ত সময়

Avatar
নিজাম উদ্দিন, সিনিয়র রিপোর্টার
১০:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

বিয়ে নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক এবং প্রণয়ের বৈধ আইনি চুক্তি ও তার স্বীকারোক্তি। বিয়ের বন্ধনকে আরো শক্ত করতেই বিয়ের পরে আসে গর্ভে সন্তানধারণের প্রশ্ন।

বংশ রক্ষা, স্বামী ও পরিবারের বয়োজষ্ঠ্যদের ইচ্ছা অনুযায়ী বেশিরভাগ নারী গর্ভধারণ করে থাকেন। নিজের অজান্তেই মা হন অনেক নারী। কিন্তু জানেন না মা হওয়ার নির্দিষ্ট বয়স কত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু গর্ভধারণের একটি নির্দিষ্ট বয়স আছে। নির্দিষ্ট বয়সের আগে মা হলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন নারীরা।

বয়স বাড়ার সঙ্গে কেন গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে: একটি মেয়ে জন্মের সময়ই কিছুসংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মায়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিঃশেষ হতে থাকে। ৩০ বছরের পর থেকেই ডিম্বাণুর সংখ্যা এবং গুণগত মান কমতে থাকে। এ সময় গর্ভধারণ করার চেষ্টার পরও দিনের পর দিন ব্যর্থ হতে পারে।

বয়সের কারণে ওজন বৃদ্ধি ও শারীরিক স্থূলতাও গর্ভধারণে বাধার সৃষ্টি করে। বেশি বয়সে সন্তান গর্ভে ধারণ করলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, গর্ভকালীন উচ্চ-রক্তচাপ, হরমোনগত সমস্যা কিংবা বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন কারণে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কম থাকে।

নারীদের গর্ভধারণ ও মা হওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করেছেন সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেডের গাইনি কনসালটেন্ট বেদৌরা শারমিন।

বেদৌরা শারমিন বলেন, নারীদের গর্ভধারণের একটি নির্দিষ্ট বয়স আছে। বাংলাদেশে নারীদের জন্য মা হওয়ার জন্য উপযুক্ত বয়স হচ্ছে ২০ থেকে ২৪ বছর। তবে ৩০ বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ করতে পারে। কিন্তু ৩০ বছরের উপরের বয়সের নারীদের গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। এছাড়া ৩৫ বছরের পরে মারাত্মক ঝুঁকির শংকা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি জন্মই হোক পরিকল্পিত, প্রতিটি জন্মই হোক নিরাপদ। গর্ভধারণের আগে প্রত্যেক নারীকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ একটি সুস্থ ও সুন্দর শিশু জন্মদানে সহায়তা করে।

আসুন জেনে নেই গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়-

২০ থেকে ২৪ বছর: মা হওয়ার জন্য ২০ থেকে ২৪ বছর হচ্ছে উপযুক্ত সময়। তবে মা হওয়ার জন্য ৩০ বছর পর্যন্ত তেমন ঝুঁকি থাকে না। তবে ৩০ বছরের পরে ঝুঁকি বাড়তে থাকে। এছাড়া ৩৫ বছরের পরে মারাত্মক ঝুঁকির শঙ্কা রয়েছে।

গর্ভধারণের আগে ডাক্তারের পরামর্শ: অনেকে মাসিক বন্ধ হওয়ার পরে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। কিন্তু গর্ভধারণ করবেন বা মা হবেন- এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।

মানসিক প্রস্তুতি: গর্ভধারণের আগে একজন নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এ সময় ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

স্বামী ও পরিবারের বয়োজেষ্ঠ্য ব্যক্তি: মা হওয়ার জন্য পরিবারে অন্য ব্যক্তিদের চেয়ে একজন নারীকে বেশি সচেতন হতে হবে। গর্ভধারণের আগে ভেবে দেখবেন আপনার সন্তানধারণের বয়স হয়েছে কিনা। কখনোই অন্যের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না।

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here