ব্যাগের নাম ও ধরণ অনুযায়ী ব্যবহার

Avatar
নিজাম উদ্দিন, সিনিয়র রিপোর্টার
১০:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০১৯

মেয়েদের নিত্যদিনের সঙ্গী ব্যাগ। ড্রেস আর জুতার পরেই সবচেয়ে জরুরি এই ব্যাগ। তবে ব্যাগ নির্বাচন করতে হবে প্রয়োজন বুঝে, নিজের গেটআপ ও কোথায় যাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে। অনেকেই ঠিক বুঝে উঠতে পারেননা কোন ধরনের অনুষ্ঠানে কোন ব্যাগ নিতে হবে। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক কোন ব্যাগের কি নাম এবং আপনি কোন ধরনের পোশাকের সাথে কোন ব্যাগটি ব্যবহার করবেন-  

ক্লাচ ব্যাগ
হাতে ক্যারি করতে হয় তাই এর নাম ক্লাচ ব্যাগ। ক্লাচ ব্যাগ ছোট কিন্তু লম্বা এবং দেখতে আয়াতাকার ও হাতলবিহীন। এই ব্যাগ সব বিয়ের আসরেই কনের হাতে দেখা যায়। ক্লাচ ব্যাগ সিম্পল অথবা গর্জিয়াস দুরকমই হয়। তাই বিয়ে বা যেকোনো পার্টিতে শাড়ি, গাউন, কামিজের সাথে ক্লাচ ব্যাগ ক্যারি করতে দেখা যায়। এই ব্যাগে জায়গা খুব কম। তাই একটা ফোন, লিপস্টিক আর টাকা ছাড়া কিছু রাখা যায় না।

ম্যাসেঞ্জার ব্যাগ
ম্যাসেঞ্জার ব্যাগে লম্বা স্ট্র্যাপ থাকে যার সাহায্যে এটা কাঁধে ঝুলিয়ে নেয়া যায়। অনেকেই এই ব্যাগ বুকের ওপর দিয়ে আড়াআড়ি ভাবে এক পাশে ঝুলিয়ে ক্যারি করেন। এই ব্যাগ ছাত্রছাত্রীদের মাঝে অনেক বেশি জনপ্রিয়। ছোট থেকে মাঝারি সাইজ পর্যন্ত হয়ে থাকে এগুলো। অল্প কিছু জিনিস যেমন ২/৩ টি বই-খাতা, ছাতা, পানির বোতল ইত্যাদি ক্যারি করা যায় এগুলোতে। সাধারণত কামিজ ও ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সাথে এই ব্যাগ বেশ মানায়।

ব্যাকপ্যাক
যেসব ব্যাগের ডাবল হ্যান্ডেল থাকে এবং তা কাঁধে বহন করা যায় ঐগুলোকে আমরা ব্যাকপ্যাক নামে চিনি। ছোটবেলায় স্কুলে এই ব্যাগ নেয়ার প্রচলন থাকলেও আজকাল অনেকেই ভার্সিটি/অফিসেও এই ব্যাগ ব্যবহার করেন। এখন অনেক সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের ব্যাকপ্যাক পাওয়া যায়। এই ব্যাগগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এতে অনেক স্পেস থাকে। দুই কাঁধে বহন করায় ব্যাগের ভার পিঠের উপর থাকে, তাই ব্যাগ ক্যারি করতে কষ্ট কম হয়। ব্যাকপ্যাকে বইখাতা, ল্যাপটপ, কাপড়চোপড় ইত্যাদি সবই ক্যারি করা যায়।

বাকেট ব্যাগ
বাকেটের মত দেখতে বলে এই ব্যাগগুলোর নাম বাকেট ব্যাগ। এগুলো সাধারনত চ্যাপ্টা তলের ও খোলা মুখের বড় বেল্ট ওয়ালা ব্যাগ। কামিজের সাথে এই ব্যাগ ক্যারি করা মানানসই। এই ব্যাগ সাধারনত মিডিয়াম সাইজের হয়ে থাকে। এর মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সহজেই ক্যারি করা যায়।

ব্যাগেট ব্যাগ
এই ব্যাগগুলো চওড়ায় একটু বেশি কিন্তু লম্বায় ছোট হয়। ক্যাজুয়াল ডেইলি ইউজের জন্য এই ব্যাগ পারফেক্ট। যেকোনো পার্টি, ওয়েডিং বা ফাংশনে শাড়ি, কামিজ, ওয়েস্টার্ন সব ধরনের ড্রেসের সাথেই এই ব্যাগ নেয়া যায়। এগুলো সাইজে বেশি বড় হয় না তাই শুধু একদম প্রয়োজনীয় টুকিটাকি জিনিস যেমন ফোন, লিপস্টিক, টাকা, একটা মিরর আর চিরুনি নেয়া যাবে।

ডাফেল ব্যাগ
ডাফেল ব্যাগ সাইজে বেশ বড় হয়। এগুলো সাধারণত ট্র্যাভেল বা স্পোর্টসের কাজে ব্যবহৃত হয়। এই ব্যাগে অনেক জায়গা থাকে বিধায় কাপড়চোপড়, জুতা ও ভ্রমণের অন্যান্য আইটেম নেয়া যায়। যারা রেগুলার জিমে গিয়ে এক্সারসাইজ করে তারা এই ব্যাগে এক্সট্রা কাপড় ক্যারি করেন। যারা স্পোর্টস করেন, তারা জার্সি ও খেলার সামগ্রী ক্যারি করেন।

টোট ব্যাগ
টোট ব্যাগ সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ও কমন ব্যাগ। মিডিয়াম থেকে বড় সাইজের এই ব্যাগগুলোয় দুইটি ছোট স্ট্র্যাপ বা হাতল থাকে। সব মেয়েদের কাছেই টোট ব্যাগ থাকে। চাকরিজীবী নারীদের কাছে এই ব্যাগ খুবই জনপ্রিয়। কারণ এতে অনেক স্পেস থাকে এবং একসাথে অনেক কিছু ক্যারি করা যায়। শাড়ি, কামিজ, ওয়েস্টার্ন সব ধরনের ড্রেসের সাথে এই ব্যাগ ক্যারি করা যায়। ফ্যাশনেবল ডিজাইনের টোট ব্যাগ যেকোনো প্রোগ্রামেও ব্যবহার করা যায়।

ফ্রেমড ব্যাগ
যেসব ব্যাগ এর ওপরের পাশ এবং ২ সাইড মেটাল ফ্রেম দিয়ে আটকানো থাকে ঐগুলোকেই ফ্রেমড ব্যাগ বলে। মেটাল ফ্রেমের কারণে ফ্রেমড ব্যাগ খালি অবস্থায়ও বেশ ভারি হয় । তাই রেগুলার ইউজের জন্য এটা কমফরটেবল না। আবার এটা হার্ড ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি বলে এটাকে ফ্ল্যাট করে শুইয়ে  ক্যারি করা যায় না। ফ্রেমড পার্স ও বেশ জনপ্রিয় বিশেষ করে ব্রাইডাল ও পার্টি গেটাপের সাথে। ফ্রেমড ব্যাগ মাঝারি সাইজের হয় এবং একসাথে অনেক কিছু ক্যারি করা যায়।

স্যাচেল ব্যাগ
স্যাচেল ব্যাগ হল সবেচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হ্যান্ডব্যাগ। এই ব্যাগ গুলোর বিভিন্ন রকম সাইজ হয়, তাই অনেকেই কলেজ, ভার্সিটি, অফিসে ব্যবহার করে থাকে। আমরা সচরাচর মিডিয়াম থেকে বড় সাইজের উপরে হাতলওয়ালা যেসব ব্যাগ ব্যবহার করি যাতে নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছু ধরে, সেগুলোই স্যাচেল ব্যাগ। এসব ব্যাগ কেনার সময় কালো অথবা ডিপ ব্রাউন কালার চুজ করা উচিত। কারণ সাদা বা বেইজ (অফ হোয়াইট) জাতীয় হালকা কালার খুব তাড়াতাড়ি ময়লা হয়ে যায়। খুব বেশি লোগো বা মেটালওয়ালা ডিজাইনের ব্যাগ অ্যাভয়েড করাই ভালো।

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here