ঢাবিতে প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ সিটের দাবিতে অপরাজেয় বাংলায় বিক্ষোভ

Avatar
নিজাম উদ্দিন, সিনিয়র রিপোর্টার
১১:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ সিটের দাবিতে অপরাজেয় বাংলায় বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগের গণরুম, গেস্টরুম নির্যাতনের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেছেন তারা। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে মেধার ভিত্তিতে হল প্রশাসনের মাধ্যমে সিট বণ্টনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন তারা। অপরাজেয় বাংলার পাদদেশের সমাবেশে বিভিন্ন বিভাগের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এ সময় তারা ঢাবিতে প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ সিটের দাবিতে অপরাজেয় বাংলায় বিক্ষোভ ঢাবিতে প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ সিটের দাবিতে অপরাজেয় বাংলায় বিক্ষোভ ‘বৈধ সিট আমার অধিকার, সাধ্য আছে কার, সে অধিকার রুখবার’, হলে থাকে বহিরাগত, ডাকসু তুমি কী কর’, ‘অছাত্র মুক্ত হল চাই, প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ সিট চাই’, ‘আর কত স্বপ্নেরা গণরুমে পচে মরবে’, ‘গেস্টরুম-গণরুমের নামে নির্যাতন বন্ধ কর’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রর্শন করেন।

বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, গেস্টরুমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চর্চার নামে তার আদর্শকে কুলষিত করে কিছু কর্তৃত্ববাদী উচ্ছৃঙ্খল সাম্রাজ্যবাদী চিন্তাধারার শিক্ষার্থীরা নবীন শিক্ষার্থীদের গেস্টরুম এবং গণরুমে অত্যাচার করে। গেস্টরুম গণরুমের এ শৃঙ্খল ভাঙতে হবে। এই কারাগার থেকে মুক্ত হতে হবে। এগুলো থেকে মুক্তি পেতে প্রতিবাদ করতে হবে। অগ্নিস্ফূলিঙ্গ হয়ে জ্বলে উঠতে হবে।

বায়োক্যামেস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী উমামা ফাতেমা জানান, রোকেয়া হলে তার এক বান্ধবী প্রমি তিশার বাবা থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত। অথচ সে হল প্রাধক্ষ্যের বিরুদ্ধে অনশনে বসেছিল এ জন্য সে সিট পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমাদের অনেকেই বলে- প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এ সমস্যা সমাধান করতে। কিন্তু আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কিছুই পরিবর্তন হবে না। প্রধানমন্ত্রী জীবনে কোনোদিন চাইবেনও না। কারণ প্রধানমন্ত্রী গণভবনে যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যান তাদের গণরুমের মাধ্যমে তৈরি করে নিয়ে যান। এই গেস্টরুম যেদিন থাকবে না প্রধানমন্ত্রীর গণভবনে একটি ছাত্রও থাকবে না। তাই আমি বলতে চাই, যা আদায় করার তা আমাদের নিজেদেরই আদায় করতে হবে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহজাহান তামীম বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। প্রথমে আমি একটি হলের গেস্টরুম-গণরুমের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে ভাবলাম আমি এখান থেকে চলে গেলে তো এর সমাধান হবে না। ভাবলাম, জাতির মেধাগুলোকে এই ক্রান্তিলগ্ন থেকে উদ্ধার করতে সবাই মিলে প্রতিবাদ করা দরকার। আমরা দখলদারিত্বমুক্ত ক্যাম্পাস চাই।

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here