সকালে লোকারণ্য, দুপুরেই ফাঁকা হোসেনী দালান

Avatar
নিজাম উদ্দিন, সিনিয়র রিপোর্টার
১০:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার রাস্তা ফাঁকা থাকলেও ব্যতিক্রম ছিল পুরান ঢাকার হোসেনী দালান এলাকা। শিয়া সম্প্রদায়ের হাজারও মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিল এই এলাকা। তবে দুপুর হতেই বদলে যায় চিত্র। দেখতে দেখতে ফাঁকা হয়ে পড়ে রাস্তাগুলো।

দুপুর ২টার দিকে হোসেনী দালানের সামনে গিয়ে দেখা যায়, হোসেনী দালান ও হোসেনী দালান জামে মসজিদের মাঝের রাস্তাটির কোথাও কোনো জটলা নেই। কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই রাস্তাটি দিয়ে পথচারীরা চলাচল করছেন।

তবে এই এলাকার সকালের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। সে সময় প্রচুর লোকের সমাগম ছিল। ফলে চাঁনখারপুল মোড় থেকে হোসেনী দালানের দিকে যাওয়ার রাস্তাটি বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সেই সঙ্গে পুরো এলাকাটি কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়।

ন্যায় প্রতিষ্ঠায় হিজরি ৬০ সালের ১০ মহররম হজরত মুহাম্মদের (স.) দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) ইসলামের তৎকালীন শাসনকর্তা এজিদের সৈন্যবাহিনীর হাতে কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন। মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে শিয়ারা এ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় এ দিনটিকে সুন্নিদের তুলনায় ভিন্নভাবে পালন করে।

এরই অংশ হিসেবে প্রতিবছর ১০ মহররম পুরান ঢাকার হোসেনী দালানের সামনে থেকে তাজিয়া মিছিল বের করে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। হোসেনী দালান ঘিরে শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের এই ঐতিহ্য কয়েকশ বছরের।

বরাবরের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কালো-লাল-সবুজের নিশান উড়িয়ে, কারবালার শোকের মাতম তুলে হোসেনী দালানের সামনে থেকে শুরু হয় শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। মিছিলের সামনে ছিল কালো কাপড়ের ইমাম হোসেনের (রা.) তাজিয়া (প্রতীকী কবর)।

হাজারও নারী-পুরুষ-শিশু হাতে অসংখ্য কালো, লাল ও সবুজ নিশান নিয়ে এবং তরুণদের (ভেস্তা) হাতে হাতে বিচিত্র আলাম (দীর্ঘ লাঠির মাথায় পতাকা) নিয়ে মিছিলটি বের হলে চাঁনখারপুল, শহীদ মিনার, বকশিবাজার এলাকা দিয়ে মানুষের যাতায়াত কষ্টকর হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তবে দুপুর ১টার পর ফাঁকা হয়ে যায়।

রুবেল হোসেন নামের একজন বলেন, এখানে মিনাবাজারে একটা কাজে এসেছিলাম। সকাল ১১টার দিকে শহীদ মিনার এলাকায় ছিলাম। মিছিল বের হলে ওখানেই আটকে পড়ি। রাস্তা দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। পুলিশও যেতে দিচ্ছিল না। দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একই স্থানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সকালের দৃশ্য আর এখনকার (দুপুর ২টা) দৃশ্য সম্পূর্ণ বিপরীত।

চাঁনখারপুলের একটি বিরিয়ানির দোকানে কাজ করা আনোয়ার বলেন, পাঁচ বছর ধরে আমি বিরিয়ানির দোকানে কাজ করছি। শুধু আজ নয় প্রতিবছর ১০ মহররম সকাল এখানে লোকারণ্য হয়ে যায়। মানুষের ভিড়ে ঠিকমতো হাঁটা যায় না। ভিড় কমতে কমতে রাত হয়ে যায়। তবে এবার দেখছি দুপুরের ফাঁকা হয়ে গেছে।

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here