ক্যাসিনোর এক কয়েনের দাম লাখ টাকা

Avatar
নিজাম উদ্দিন, সিনিয়র রিপোর্টার
৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

ক্যাসিনো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জুয়া খেলার একটি নির্দিষ্ট স্থান যাকে বাংলায় ‘জুয়ার আড্ডা বা আসর’ বলা যায়। বিশ্বব্যাপী ধনী বা বিত্তশালীরাই এর মূল গ্রাহক। এসব ক্যাসিনোতে বৈধ-অবৈধ নির্বিশেষে যে কোনো অর্থ দিয়ে জুয়া খেলা যায়।

আর এজন্য আগ্রহী ব্যক্তিকে প্রথমেই সার্ভিস চার্জসহ নগদ অর্থ জমা দিয়ে সমপরিমাণের কয়েন বা চিপস কিনে নিতে হবে। বিশ্বের নানা দেশে এসব কয়েনের মূল্যমান ভিন্ন।

ক্যাসিনোর জন্য এশিয়ার স্বর্গরাজ্য হচ্ছে ফিলিপাইন। দেশটির সংবাদ মাধ্যম ইনকোয়ারারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বেশিরভাগ ক্যাসিনোতেই ফিলিপিনো মুদ্রা পেসো ব্যবহার করা হয়। একেক রঙের ও ধরনের কয়েনের জন্য একেক রকম মূল্যমান নির্ধারিত থাকে। সাধারণত সর্বনিু ২০ ডলারের সমমানের কয়েন থেকে শুরু করে এক হাজার ডলার সমমানের কয়েন পাওয়া যায় এসব ক্যাসিনোতে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার বা এক লাখ ডলারের বিশেষ কয়েনও দিয়ে থাকে এসব ক্যাসিনো। কয়েনের বিভিন্ন মূল্যমান থাকলেও এসব ক্যাসিনোতে মিলিয়ন বা লাখ ডলারের চিপসও অসম্ভব নয়। আর ওই বাজির কয়েন হাতবদল হয়ে তা চলে যায় অন্য কারও হাতে। আর পরবর্তীতে সেই চিপসগুলোকে নগদ অর্থে রূপান্তরিত করে ট্যাক্স পরিশোধ করার মাধ্যমে বৈধ করা হয়।

ওই কয়েনগুলো নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ দিয়ে ভাঙিয়ে নেয়া যায়। আবার কেউ তা রেখে দিয়ে পরবর্তী সময়েও চার্জসহ ভাঙিয়ে নিতে পারেন। আর আন্তর্জাতিকভাবে সম্পর্কিত ক্যাসিনোগুলোর ক্ষেত্রে এক ক্যাসিনোর কয়েন অপর ক্যাসিনোতেও ভাঙানো যায়। অর্থাৎ, এই কয়েনও এক ধরনের ব্যাংক চেকের মতোই। ফিলিপাইনের ক্যাসিনো পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফিলিপাইন অ্যামিউজমেন্ট অ্যান্ড গ্যামিং কর্পোরেশন (পিএজিসিওআর) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ২৬টি বৈধ ক্যাসিনো রয়েছে। এর বেশিরভাগই পিএজিসিওআর কর্তৃক পরিচালিত। অন্যান্য বৈধ ক্যাসিনোগুলোও ওই সংস্থাটি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত। ফিলিপাইনের আইন অনুযায়ী ক্যাসিনোতে জুয়ায় জেতা অর্থ থেকে নির্ধারিত ট্যাক্স দিলে তা বৈধ আয় বিবেচিত হয়। শুধু তাই নয়, দেশটিতে ক্যাসিনো (জুয়ার আসর) মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় পড়ে না। তাই পাচার করা অর্থও ক্যাসিনোতে প্রবেশের মধ্য দিয়ে বৈধতা পেতে পারে।

বাংলাদেশে কয়েক দিন ধরে ক্যাসিনো শব্দটি বেশ আলোচিত হচ্ছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬০টির বেশি ক্যাসিনো আছে। এসব ক্যাসিনো সরকারের অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে চলছে। দেশের ক্যাসিনোগুলোতে সর্বোচ্চ একটি কয়েনের দাম এক লাখ টাকা। এরপরের একটি কয়েনের দাম ৫০ হাজার। রাজধানীর মতিঝিল ক্লাবপাড়ার ক্যাসিনোর জুয়ার বোর্ডে সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কয়েনের দাম। ক্লাবে প্রবেশের পর ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা দিয়ে এ কয়েন সংগ্রহ করতে হয়। এছাড়াও রয়েছে ১০ হাজার, পাঁচ হাজার ও সর্বনিু এক হাজার টাকার কয়েন। এখানে প্রতি রাতে জুয়ার বোর্ডে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। ক্যাসিনোতে গ্রাহকরা তাদের পছন্দমতো বিভিন্ন খেলার সুযোগ পায়, তবে যে যেই বিষয়ে পারদর্শী হয় সে সেটি খেলার চেষ্টা করে থাকে। বিশেষ করে ব্ল্যাকজ্যাক, ভিডিও পকার, ব্রাক্যারেট, ক্রাপ, রুলেট খেলে থাকেন।

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here