ব্যাংক হিসাব খোলায় গ্রাহকের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ

Avatar
নিজাম উদ্দিন, সিনিয়র রিপোর্টার
৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

ব্যাংক হিসাব খোলায় গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত তথ্য ও কাগজপত্র নেয়ার নামে গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধে সহজ ফরম করা হচ্ছে। সব ব্যাংকই এর ভিত্তিতে হিসাব খুলতে পারবে। হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অন্যান্য আইনের প্রয়োগেও যাতে কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

এসব মিলিয়ে একটি ফরম করা হবে; যার ভিত্তিতে গ্রাহকরা সহজে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে হিসাব খোলার যেসব ফরম রয়েছে, সেগুলো অনেকটাই বইয়ের আকারে রূপ নিয়েছে। এতে গ্রাহকদের যেমন মাত্রাতিরিক্ত তথ্য দিতে হয়, তেমনি দিতে হচ্ছে নানা ধরনের কাগজপত্র। এগুলো সংগ্রহ করতে গ্রাহকদের হয়রানি হতে হয়।

বিশেষ করে ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের হিসাব খোলার ক্ষেত্রেও এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হিসাব খোলার জটিলতাও একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন বিনিয়োগ বাড়ানোসহ গ্রাহকদের সুবিধার্থে সরকার এদিকে বিশেষ নজর দিয়েছে।

এসব বিবেচনায় হিসাব খোলার পদ্ধতি সহজ করতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এজন্য সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। মূলত গ্রাহকের সময়, খরচ, যাতায়াত ও ভোগান্তি কমাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে এ সংক্রান্ত গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাতে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে ব্যবহৃত ফরমগুলো ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সহজ করতে বলা হয়েছে। এ কমিটির পরবর্তী সভা ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে ফরমের একটি খসড়া তৈরি করা হবে। এরপর যথাযথ কর্তৃপক্ষ তা চূড়ান্ত করবে বলে জানা গেছে। কমিটির প্রথম সভায় সভাপতির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকে হিসাব খোলার ফরমটি আসলেই জটিল এবং সেটি পূরণ করা কষ্টসাধ্য। এছাড়া ফরমটিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেশ কিছু তথ্য চাওয়া হয়। ফলে এটি একটি পুস্তিকার আকার ধারণ করেছে। এ ধরনের ফরম সহজ করে অবশ্যই গ্রাহকবান্ধব করতে হবে।

কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) কামাল হোসেন বলেন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পরবর্তীতে বিএফআইইউ ২০১৮ সালে গ্রাহকদের মৌলিক তথ্য নিয়ে হিসাব খোলার নির্দেশনা জারি করে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের নির্দেশনাগুলো পরিপালনের জন্য হিসাব খোলার ফরমের সঙ্গে নতুন নতুন ফিল্ড সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকগুলো নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ করে। কারণ হিসাব খোলার ফরম প্রকৃতপক্ষে গ্রাহক এবং ব্যাংকের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি। তবে অনেক ব্যাংক ইচ্ছেমতো অপ্রয়োজনীয় অনেক তথ্যও গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়ে থাকে।

এমনকি গ্রাহকের যেসব তথ্য ব্যাংক কর্তৃক পূরণ করে সরবরাহ করার কথা সেসব তথ্য প্রদানের দায়িত্বও গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। এভাবে ফরমের আকার বাড়তে থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএফআইইউ ‘ই-কেওয়াইসি’ (ইলেকট্রনিক নো ইউর কাস্টমার) নিয়ে কাজ করছে, যার পাইলটিং আগামী অক্টোবর মাসে শুরু হবে। ই-কেওয়াইসি বাস্তবায়ন হলে হিসাব খোলার ফরম সহজ হবে এবং জটিলতা কমবে। এতে সরাসরি এনআইডি ভেরিফিকেশনের সুযোগ থাকবে। কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত সচিব এবিএম রুহুল আজাদ বলেন, ফরম সহজ করার জন্য বিএফআইইউ ‘ই-কেওয়াইসি’র কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসনীয়। তবে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। তাছাড়া ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কেওয়াইসি চালু হলেও ফরমের প্রয়োজনীয়তা সব সময় থাকবে। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ফরম সহজ করার কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ই-কেওয়াইসির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ কমিটি ফরম সহজ করার সুপারিশ করবে।

এ বিষয়ে কমিটির অপর সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোছাম্মত শিরিন শবনম বলেন, ব্যাংকগুলো নাগরিক সেবা, প্রাতিষ্ঠানিক সেবা ও অভ্যন্তরীণ সেবা- এ তিন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। সেবা প্রদানের জন্য ব্যাংকের ফরমগুলো এমন হতে হবে, যাতে একজন সাধারণ মানুষ অথবা স্কুলের শিক্ষার্থী কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা না করেই দ্রুততম সময়ে তা যথাযথভাবে পূরণ করতে সক্ষম হয়। চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সাধারণ মানুষ বা স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন ফরমের বিষয়ে পরীক্ষামূলক মতামত নেয়া যেতে পারে। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাংকে ব্যবহৃত ফরমগুলো সহজ ও গ্রাহকবান্ধব করার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here