নোবেল উদযাপনেও ডিজে পার্টি

ভারতে রাতের বেলায় ৬৫ ডেসিবেলের ওপরে সাউন্ড বক্স বাজানো হলেই শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। তবে সম্প্রতি কলকাতায় শব্দ দূষণের মাত্রা যেন কমছেই না। কোনো একটা উপলক্ষ পেলেই সাউন্ড বক্স বাজিয়ে ডিজে পার্টি করে শব্দ-তাণ্ডবে মেতে ওঠেন।

দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজার পর এবার নোবেল জয় নিয়েও সাইন্ড বক্স বাজিয়ে ডিজে পার্টির শব্দ-দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দেশটির সমাজতত্ত্বের শিক্ষক থেকে মনোরোগ চিকিৎসক সকলেই বলছেন, কঠোর আইন প্রণয়ন ছাড়া অন্য পথ নেই।

চলতি মাসের (অক্টোবর) ৮ তারিখ দশমী থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত দুর্গা প্রতিমার বিসর্জন ঘিরে কলকাতা শহরের নানা জায়গায় প্রবল শব্দ-তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে। দুর্গাপূজা শেষ হতে না হতেই একই রকম সাইন্ড বক্সের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে লক্ষ্মীপূজাতেও। এরই মধ্যে সোমবার কসবায় দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।

দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে শব্দ-তাণ্ডব চলে ষোলো আনা। যদিও উপলক্ষ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে দেখি, তীব্রস্বরে বক্স বাজিয়ে শোভাযাত্রা যাচ্ছে রাসবিহারী কানেক্টর দিয়ে। প্রথমে ভেবেছিলাম, এ বুঝি লক্ষ্মীপূজার ভাসান। উদ্দাম নাচে ব্যস্ত এক কিশোরকে ডেকে জানতে চাইলে সে শুধু বলে, নোবেল, নোবেল!’

ঘটনার বিবরণ শুনে মনোরোগ চিকিৎসক অনিরুদ্ধ দেব বলেছেন, ‘এবার নোবেলেও বক্স বাজিয়ে নাচ? বক্স বাজানো বা আইন ভাঙাতেই ব্যাপারটা এখন আর সীমাবদ্ধ নেই। এটি আদতে একটা গোটা সমাজের পরিচিতি প্রকাশের ধরন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কড়া আইন প্রণয়ন না করলে এ জিনিস আটকানো যাবে না।’

সমাজতত্ত্বের এক শিক্ষক অভিজিৎ মিত্র বলেছেন, ‘এটা আসলে অদ্ভুত আত্মঘোষণার রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে এই বহিঃপ্রকাশটাকেই অধিকার ভেবে নিয়েছেন। আর আইন থেকেও যেহেতু প্রয়োগ হচ্ছে না, তাই এসব করেও লাইসেন্স হাতে পেয়ে যাওয়ার মতো ধারণা হচ্ছে কিছু মানুষের।’

দেশটির শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র জানান, পর্ষদের একটি দল রাস্তায় ঘুরছে। ৬৫ ডেসিবেলের ওপরে সাউন্ড বক্স বাজতে দেখলেই তারা পুলিশকে জানাচ্ছেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মাও বলেন, ‘আইন অনুযায়ী উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হয়। সব পুলিশকর্মীকে সেই নির্দেশও দেয়া হয়েছে।’

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here