জবি শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যবসায়ীদের সশস্ত্র হামলা,টাকার মাধ্যমে ঘটনা নিষ্পত্তি

Avatar
অপূর্ব চৌধুরী, জবি প্রতিনিধি
১০:০৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৯
পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার মোড়ের ব্যবসায়ীদের সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত জবি শিক্ষার্থী শেখ রিফাত ও মুসা।

 

সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ (শনিবার-৯ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ের ব্যবসায়ীরা। তাদের এই সশস্ত্র হামলায় ৪ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, আজকে (শনিবার-৯ নভেম্বর) বেলা ১২.৩০ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ে রাস্তার পাশের ফুটপাতে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১১তম ব্যাচের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের মশিউর রহমান ও একই বিভাগের ১২ তম ব্যাচের আশরাফুল ইসলামের সাথে কয়েকজন ব্যবসায়ীর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা ধারালো দেশীয় অস্ত্র (লোহার রড, লাঠি, দা) নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মশিউর রহমান ও আশরাফুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। সেই হামলায় তাদেরকে বেধড়ক পিটায় ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দুই শিক্ষার্থীর ওপর ব্যবসায়ীদের হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশে অবস্থানরত প্রায় ১০/১৫ জন জবি শিক্ষার্থী হামলার শিকার হওয়া দুইজনকে উদ্ধার করতে যায়। কিন্তু জবি শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হলে পুনরায় ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হন। এবং প্রায় ১০০ জন ব্যবসায়ী একত্রিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র (লোহার রড,দা,লাঠি) নিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুনরায় হামলা চালান। এসময় তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১১তম ব্যাচের মনোবিজ্ঞান বিভাগের রিফাত ১৩ তম ব্যাচের তামিম এবং ১৪তম ব্যাচের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মুসাকে বেধড়ক মারধর করেন।

ব্যবসায়ীদের হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া ১১ব্যাচের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ রিফাত
তাদের বেধড়ক মারধরের ফলে মুসার মাথা সম্পূর্ণ ফেটে যায় এবং তার পা গভীরভাবে জখম হয়, তামিমের হাত ভেঙ্গে যায় ও সারা শরীর জখম হয়। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন জবি শিক্ষার্থী ব্যবসায়ীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়। হামলার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২টি মোবাইল ছিনতাই একটি মোবাইল ভেঙ্গে দেয় ব্যবসায়ীরা।

 

ব্যবসায়ীদের হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা।
হামলার পরবর্তী সময়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ গুরুতর আহত জবি শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে দ্রুত মিটফোর্ড ও ন্যশনাল মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যবসায়ীদের এমন অমানবিক হামলার ব্যাপারে প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আমরা ইতিমধ্যেই পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য জবি প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীদের ওপর এই হামলার যথোপযুক্ত বিচারের জন্য যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।
এই হামলায় গুরুতর আহত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা বলেন, আমরা প্রথমে হামলার খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করতে রায়সাহেব বাজার মোড়ে যাই। কিন্তু আমরা সেখানে পৌঁছা মাত্রই সংঘবদ্ধভাবে ব্যবসায়ীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা তাদেরকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পরেও তাদের হিংস্রতা থামেনি।
এই ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি মওদুত আহমেদ বলেন,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নিব।
কিন্তু সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত জবি শিক্ষার্থীদেরকে ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা খরচ বাবদ মোট ৮০হাজার টাকা দিয়ে কোতোয়ালি থানায় ওসি মওদুত আহমেদের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও আহত জবি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এই অমানবিক হামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যেখানে ২টি মোবাইল ছিনতাই এর জন্য ৫৫ হাজার টাকা ১টি মোবাইল ভেঙ্গে ফেলায় তার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৯ হাজার টাকা এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ বাবদ ১৬ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
Chat Conversation End

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here