স্কুলে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি: এএসআইকে ধরে গণধোলাই

স্টাফ রিপোর্টার, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

ভারতে কলকাতার মোহনপুর এলাকায় একটি স্কুলে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে হাড়োয়া থানার এক এএসআইকে গণধোলাই দিয়েছে উত্তেজিত জনতা।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে কার্যত রণক্ষেত্রে রূপ নেয় হাড়োয়া থানার মোহনপুর এলাকা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। রাস্তাঘাট অবরোধ করে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।


ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে স্কুলের মধ্যে আটকে রেখে বেধড়ক পিটানো হয়। বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে প্রায় আট ঘণ্টার চেষ্টায় মাঝরাতে তাকে উদ্ধার করে। জাহাঙ্গীর হোসেন নামে ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টরকে (এএসআই) উদ্ধার করে গুরুতর আহতাবস্থায় বসিরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়রা গণমাধ্যমকে জানান, মোহনপুরের বাছড়া এমসিএইচ উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ছাত্র ও যুব উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ওই উৎসবের শেষ দিন ছিল শুক্রবার। অনুষ্ঠান উপলক্ষে ওই স্কুলেই ডিউটি পড়ে হাড়োয়া থানার এএসআই জাহাঙ্গীরের। শুক্রবার সকাল থেকেই তার সঙ্গে ওই স্কুলের একাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রীকে বেশ কয়েক বার কথা বলতে দেখা গেছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। কারণ হিসেবে তারা জানান, ওই দুই ছাত্রীর ইচ্ছা ছিল অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার। সেই বিষয়ে পরামর্শ নিতে তারা কথা বলেছিল ওই এএসআইয়ের সঙ্গে।

সন্ধ্যার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হতেই জাহাঙ্গীর ওই দুই ছাত্রীর একজনকে স্কুলেরই দোতলার একটি ঘরে ডেকে নিয়ে যান। তার পর ঘরের দরজা বন্ধ করে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। প্রত্যদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হঠাৎ করেই ওপরের ক্লাসরুম থেকে চিৎকার শুনতে পেয়ে স্কুল চত্বরে যারা ছিলেন, তারা ছুটে যান। ঘরের দরজা খুলে উদ্ধার করা হয় ওই ছাত্রীকে। এ সময় জাহাঙ্গীরকে পাকড়াও করা হয়। এর মধ্যেই অন্য শিক্ষার্থী ও এলাকার বাসিন্দারা পৌঁছে যান স্কুলে।

জাহাঙ্গীরকে ধরে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। কোনো রকমে তাদের হাত ছাড়িয়ে ওই এএসআই প্রথমে স্কুলের অফিসঘরের একটি আলমারির পেছনে লুকিয়ে পড়েন। সেখান থেকেও তাকে টেনে বের করে মাটিতে ফেলে শুরু হয় বেধড়ক মার। খবর পেয়ে হাড়োয়া থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। তাদের লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইটপাটকেল। ঘিরে ফেলা হয় পুলিশকর্মীদের।

এর পর রাতের দিকে মাটিয়া, বসিরহাট ও মিনাখা থানা থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল চলতে থাকে অবিরত। ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের গাড়িতে। আগুন লাগানোর অভিযোগও ওঠে। জ্বালিয়ে দেয়া হয় একটি মোটরসাইকেলও। পরে রাতে বসিরহাটের এসডিপিও ঘটনাস্থলে যান।

গভীর রাতে ঘটনাস্থলে যান বসিরহাট জেলার এসপি কঙ্কর প্রসাদ বারুই। তার উদ্যোগে রাত প্রায় ২টার দিকে জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করা হয়। তার পর পাঠানো হয় বসিরহাট হাসপাতালে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও। শনিবার সকালে ফের উত্তেজনা ছড়ায় গ্রামে। জাহাঙ্গীরের কঠোর শাস্তির দাবিতে পোস্টার সেঁটে স্কুলের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন গ্রামবাসী।

জাহাঙ্গীরের বাইক ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেয়া হয়। নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা বলেন, ওই পুলিশ অফিসার মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার পর শিক্ষকরা মিটমাট করে নিতে বলেছিলেন। এতে আরও উত্তেজনা ছড়ায়। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, আমার কাছে চাকরির জন্য এসেছিল দুটি মেয়ে। চাকরি দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় বলায় মিথ্যে অপবাদে ফাঁসানো হয়েছে।

বাংলাদেশ/স্টাফ/রিপোর্টার