যৌন হয়রানির মামলা করতে গিয়ে পুলিশি হয়িরানির মুখোমুখি ভুক্তভোগী

জবি প্রতিনিধি, ক্রাইম রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২০
আটক অভিযুক্ত ইভ টিজার তারেক আজিজ।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় যৌন হয়রানির অভিযোগ দিতে গিয়ে পুলিশের হয়রানীর শিকার হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী। যৌন হয়রানির ঘটনায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা নিতেও অস্বীকৃতি জানায়।

গত ০৮ মার্চ রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ১দিন পর মামলা নেয় শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে।


ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী জানান, গত ০৮ মার্চ রাতে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় থেকে মিরপুরের শেওড়াপাড়া যাওয়ার সময় বাসে যৌন হয়রানির শিকার হন তিনি। এসময় ওই যুবক পালিয়ে যাওয়ার সময় তার মোবাইল ফোনটি রেখে যায়। ঘটনার পর রাত ১১টায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার বাবা শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে ‘সুধাংশু’ নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা তার মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে অফিসার ইনচার্জ জানে আলম মুনশীর কাছে ঘটনার বিবরণ দিলে তিনি একটি সাদা পাতায় অভিযোগ লিখে দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে থানা থেকে চলে যেতে বলেন।

এ ঘটনার পর গত সোমবার (৯মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও প্রধান ফটকের সামনের সদরঘাটগামী জনসন রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গত মঙ্গলবার একজনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেয় পুলিশ।

সেদিন রাতে মিরপুরের পশ্চিম মণিপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত তারেক নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারেক বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও একটি ডাটা অ্যানালাইসিস অ্যান্ড টেকনলজি কোম্পানিতে কর্মরত। শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময় ওই যুবককে হাতেনাতে ধরে তার মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়। কিন্তু বাস থেকে নামার পর ওই যুবক হাত ছিটকে পালিয়ে গেলেও তার ফোনটি থেকে যায়। এতো প্রমান থাকা সত্বেও আমরা শেরে বাংলা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আমাদের মামলা নেয়নি। পরদিন মামলা নিলেও, সাংবাদিকদের সাথে কোনো ধরনরে কথা না বলতে নিষেধ করে।

জবি প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে এমন হয়রানির শিকার হবে সেখানে প্রক্টরিয়াল বডি সব সময় তৎপর থাকবে।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে শেরে বাংলা থানার ওসি জানে আলম মুনশী বলেন, আমি সেদিন রাতেই মামলা নিয়েছি। আমি ঘটনাটি জানার পরপরই ব্যবস্থা নিয়েছি। সাংবাদিকদের ব্যাপারেও আমি কিছু বলিনি। 

বাংলাদেশ/জবি/প্রতিনিধি