সেই ম্যাচের দুঃসহ স্মৃতি এখনও কাঁদায় ডু প্লেসিসকে

দৈনিক২৪, ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০

দল হিসেবে অসাধারণ। ব্যক্তিগত দক্ষতা আর সাফল্যের মানদন্ডেও প্রোটিয়ারা দুর্দান্ত। সব হিসেবেই বিশ্বের অন্যতম সেরা। তবু অতিবড় প্রোটিয়া সমর্থকও নিজ প্রিয় দলকে নিয়ে খুব গর্ব করতে পারেন না, উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতে গিয়েও থেমে যান। কারণ দল হিসেবে এখনও চূড়ান্ত সাফল্য নেই।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সেই ৯২’র বিশ্বকাপে ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতা বহু দূরে, ফাইনালেই পৌঁছাতে পারেনি দক্ষিণ অফ্রিকা। সেমিফাইনালের প্রাচীরই টপকানো সম্ভব হয়নি। বারবার জায়গামত জ্বলে উঠতে না পারার খেসারত দিয়ে শেষমুহূর্তে বাদ পড়ায় ‘চোকার্স’ বদনামও জুটেছে তাদের।


সবাই ধরেই নিয়েছেন, রবিন লিগ বা গ্রুপপর্বে যত ভালই খেলুক না কেন, জায়গামত গিয়ে আর পারবে না দক্ষিণ আফ্রিকা। ঘুরেফিরে বার বার ঘটছেও তাই।

তবে এর মধ্যে ২০১৫ সালের আসরে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের কাছে সেমিফাইনালের পরাজয়টি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসের বেদনাদায়ক পরাজয়ের অন্যতম হয়ে আছে। যে ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন প্রতিটি দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেমিফাইনালে গিয়ে হেরে বসায় সমালোচকরা ধরেই নিয়েছেন, প্রোটিয়াদের নার্ভ দূর্বল। কিন্তু যারা সারাবছর দক্ষিণ আফ্রিকানদের মাঠের পারফরমেন্স দেখেন তারা সবাই জানেন, প্রোটিয়া ক্রিকেটাররা মোটেও মনের দিক থেকে দূর্বল নন। বরং শারীরিকভাবে শক্ত সামর্থ্য এবং বেশিরভাগ ক্রিকেটার প্রচন্ড ফিট, এক কথায় অ্যাথলেট।

সেই দলের সবাইকে কান্নায় ভেঙে পড়তে কে দেখেছে কবে? শুধু ঐ একদিন অকল্যান্ডের ইডেন পার্কের ৪১ হাজার ২৭৯ জন ও টিভিতে শত কোটি দর্শক দেখেছেন একদম কান্নায় ভেঙে পড়তে।

সেই দলের অন্যতম সদস্য ফাফ ডু প্লেসিসের ধারণা, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট ইতিহাসে আর কখনও প্রোটিয়া ক্রিকেটারদের এত মন খারাপ হয়নি। তারা এভাবে আগে কখনও কান্নায় ভেঙে পড়েননি।

বুধবার রাতে তামিম ইকবালের সঙ্গে ফেসবুক লাইভে এসেও সে হারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেমন যেন হয়ে গেলেন ফাফ ডু প্লেসিস। অকপটে স্বীকার করলেন, ‘আমাদের মন খুব খারাপ হয়েছিল। আমরা সবাই দুঃখে-কষ্টে কেঁদে ফেলেছিলাম।’

ডু প্লেসিসের ধারণা, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে হয়তো কোন পরাজয়ের পর পুরো দলকে এতটা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে হয়নি। এমন মনমরাও দেখা যায়নি।

তার ভাষায়, ‘আমাদের দলের বেশিরভাগ সদস্যই দুর্দান্ত অ্যাথলেট। শারীরিক দিক থেকে যেমন, তেমনি মনের দিক থেকেও বেশিরভাগই বেশ শক্ত, কঠিন। কিন্তু ঐ সেমির যুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর সবাই কেমন যেন মুষরে পড়ল। কান্না বহু দূরে, যাদের কখনও হতাশ দেখিনি, সেই এবি (এবি ডি ভিলিয়ার্স) ও মরনে মরকেলও কান্নায় ভেঙে পড়েছিল।’

সেই পরাজয়ের পর দলের মানসিক অবস্থা কেমন হয়েছিল?- তা জানাতে গিয়ে ডু প্লেসিস বলেন, ‘সেমিতে হারের পর ফ্লাইট শিডিউল না পাওয়ায় আমাদের আরও দুদিন নিউজিল্যান্ডেই থাকতে হয়েছিল। ঐ দুইদিন আমরা এতটাই মনমরা ছিলাম যে, কেউ কারও সঙ্গে কথা বলিনি। সবাই মনমরা হয়ে মাথা নিচু করে বসে ছিলাম।’

বলে রাখা ভাল, ফাফ ডু প্লেসিস ওপরে যে ম্যাচের বর্ণনা দিলেন, সেটা ছিল ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল। দিনটি ছিল ২৪ মার্চ, ২০২৫। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে এসেছিল ৪৩ ওভারে। ফাফ ডু প্লেসিস ৮২, রাইলি রুশো ৩৯ আর এবি ডি ভিলিয়ার্স ৬৫* রান করলে ৪৩ ওভারে ২৮১ রানের বড়সড় পুঁজি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর যখন ৪৩ ওভারে ৫ উইকেটে ২৮১, ঠিক তখনই ফের বৃষ্টি আসে। সেখানেই প্রোটিয়া ইনিংস সেখানেই শেষ হয়ে যায়। বৃষ্টির পর ডি/এল ম্যাথডে নিউজিল্যান্ডকে টার্গেট দেয়া হয় ৪৩ ওভারে ২৯৮ রানের।

ঠিক এক বল বাকি রেখে ঐ রান টপকে ৪ উইকেটের দুর্দান্ত জয়ে মাঠ ছাড়ে ব্ল্যাকক্যাপসরা। আবারও সেমিফাইনালে গিয়ে ‘চোকার্স’ বদনাম সঙ্গী হয় এবি ডি ভিলিয়ার্স-ফাফ ডু প্লেসিসদের। সেই পরাজয় এখনও মনে গেঁথে আছে প্রতিটি দক্ষিণ আফ্রিকান সমর্থকের, এমনকি ক্রিকেটারদেরও।

সুত্রঃ জাগো নিউজ

বাংলাদেশ/দৈনিক২৪