বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য যে এত কিছু করল, তাকেই কিনা আমরা…

দৈনিক২৪, ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

জাতি হিসেবে কি আমরা আসলেই অকৃতজ্ঞ? কাউকে মাথায় তুলে নাচতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি মাটিতে আছড়ে ফেলতেও সময় লাগে না আমাদের। ক্রিকেটে এমন উদাহরণ আছে ভুরি ভুরি।

তবে গর্ডন গ্রিনিজের সঙ্গে যা হয়েছে, সেটি এখনও ভুলতে পারছেন না বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। তামিম ইকবালের সঙ্গে লাইভ আড্ডায় টাইগারদের সাবেক এই কোচের প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন তিনি। বললেন, এ দেশের ক্রিকেটে গর্ডন গ্রিনিজের ঋণ কেউ কোনোদিন শোধ করতে পারবে না।


ক্যারিবীয় এই কোচের অধীনেই ১৯৯৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ, প্রথমবারের মতো অর্জন করেছিল বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা। বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফর্ম করে টাইগাররা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জেতার পর পাকিস্তানের মতো টপ ফেবারিট দলকেও হারিয়ে দেয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেটি এখনও বড় আপসেটের একটি।

কিন্তু যার হাত ধরে এমন সাফল্য, সেই গর্ডন গ্রিনিজকে ওই বিশ্বকাপ চলার সময়ই বরখাস্ত করা হয়। যে দলটিকে নিজের হাতে গড়েছেন, সেই দল ছেড়ে যাওয়ার সময় চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি ক্যারিবীয় এই কোচ।

তামিম তার ফেসবুক লাইভে চাচা আকরাম খানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এ দেশের ক্রিকেটে গর্ডন গ্রিনিজের অবদান ছিল কতটা?

জবাবে আকরাম বলেন, ‘অনেক। এটা কথায় বলা যাবে না। ও যখন আসছে, তখন আমরা শুধু ক্রিকেটই খেলতাম। বাইরের কিছুই বুঝতাম না। ক্রিকেটের জন্য কিভাবে আমাদের তৈরি হতে হবে মেন্টালি, ফিজিক্যালি কিছুই জানতাম না। ও আমাদের নিজের মতো করে গড়ে নিয়েছিল। সকাল পাঁচটা-ছয়টায় ঘুম থেকে তুলে নিয়ে দুই ঘন্টা ফিজিক্যাল ট্রেনিং করাতো। পরে হয়তো দুই ঘন্টা বিশ্রাম দিল। আবার ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং করাতো। সব সে-ই করতো ‘

আকরাম যোগ করেন, ‘তখন তো এখনকার মতো আলাদা আলাদা ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং কোচ বা ফিজিও-ট্রেইনার ছিল না। ব্যাটিংও সে করাতো, বোলিং-ফিল্ডিং, ট্রেনিংও। তার অবদান কিন্তু কোনোদিন বাংলাদেশ ভুলতে পারবে না। সে আমাদের প্রচুর সাপোর্ট করেছে।’

এমন একজন কোচের সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, সেটি আসলে মানার মতো নয় বলেই মনে করেন আকরাম খান। তার ভাষায়, ‘ওর সাথে আমরা যা করেছি, সেটা এক দুঃখের কাহিনী। ওকে বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা পছন্দ করতো না, যেটা বাংলাদেশে হয় আর কি! যে লোকটা এত কিছু করে গেল, খেলোয়াড়দের এত সাপোর্ট দিতো; বাংলাদেশ ক্রিকেটে যার এত অবদান ছিল, ওকেই কিন্তু খুব খারাপভাবে বিদায় দেয়া হয়েছে।’

গর্ডন গ্রিনিজের সঙ্গে বোর্ডের চুক্তি ছিল ওই বিশ্বকাপ পর্যন্তই। পাকিস্তানের বিপক্ষে যে ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতে ইতিহাস গড়েছিল, সেই ম্যাচটি ছিল টুর্নামেন্টে টাইগারদের শেষ ম্যাচ। অর্থাৎ ওই ম্যাচের পর এমনিতেই চুক্তি শেষ হয়ে যেত গর্ডনের। তার সঙ্গে শেষবেলায় এমন আচরণ না করলেও চলতো!

আকরাম খান বলছিলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটা ছিল ওর চুক্তির শেষ দিন, সেদিনই দুপুর বেলা তাকে বরখাস্ত করা হলো। আমি ড্রেসিংরুমে ফিরে দেখি, সে বিদায় নিচ্ছে। একটা লোক যে কিনা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এত কিছু করেছে, ওকে এভাবে বিদায় দেয়াটা আমরা কোনোভাবেই মানতে পারিনি। এখনও আমার কাছে খারাপ লাগে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে হয়তো অনেকেরই অবদান আছে, কিন্তু ও যা করে গেছে, কেউ কোনোদিন সেই ঋণ শোধ করতে পারবে না।’

সুত্রঃ জাগো নিউজ

বাংলাদেশ/দৈনিক২৪