শিক্ষকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণের সুযোগ

দৈনিক২৪, নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশিত: ৩:১৫ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

ছয় সপ্তাহের ফুলব্রাইট টিচিং এক্সিলেন্স অ্যান্ড এচিভমেন্ট (টিইএ) প্রোগ্রামের জন্য বাংলাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন নিচ্ছে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। নির্বাচিতরা তাদের পছন্দমতো ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ অথবা সেপ্টেম্বর-নভেম্বর সেশনে অংশ নিতে পারবেন।

জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত শিক্ষকরা অন্যান্য দেশ থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের সাথে মিলে তাদের পছন্দমতো ২০২১ সালের স্প্রিং কিংবা ফল সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রোগ্রামে অংশ নেবেন। ফুলব্রাইট টিইএ প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে শিক্ষকরা তাদের নিজ নিজ বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। এতে তাদের শিক্ষাদানের দক্ষতা এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে জ্ঞান বাড়বে।


যা শিখবেন: এ প্রোগ্রামে পাঠক্রম ও পাঠদান পদ্ধতি, পাঠ পরিকল্পনা এবং শেখানোর কৌশলের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যাতে তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে সেগুলো কাজে লাগাতে পারেন। এ ছাড়াও ইন্টারনেট, ওয়ার্ড প্রসেসিং এবং শিক্ষাদানের একটি মাধ্যম হিসেবে কম্পিউটারের ব্যবহার শেখানো হবে। ছয় সপ্তাহের এ প্রোগ্রামের আওতায় দুই সপ্তাহের জন্য তারা আমেরিকার একটি মাধ্যমিক স্কুলে ইন্টার্নশিপ করবে। এতে আমেরিকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। তাদের যুক্তরাষ্ট্রের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হবে। পুরো প্রোগ্রামজুড়েই একাডেমিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সুযোগ-সুবিধা: প্রোগ্রামের জন্য নির্বাচিত শিক্ষকরা জে-১ ভিসা সহায়তা, ঢাকায় একটি প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন, ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র উভয়পথে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যাতায়াতের বিমান ভাড়া, ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি ওয়েলকাম ওরিয়েন্টেশন, একাডেমিক প্রোগ্রাম বা শিক্ষা কার্যক্রমের যাবতীয় খরচ, বাসস্থান এবং খাবার, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যবীমা, ইন্টার্নশিপ স্কুলে যাতায়াত খরচ, বইপত্র কেনা অথবা পেশাগত উন্নয়নের জন্য ভাতা, আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটিতে আয়োজিত সমাপনী সেমিনারে অংশগ্রহণের সুযোগ, ভবিষ্যতে নিজ দেশে একজন আমেরিকান শিক্ষকের নিমন্ত্রণকারী বা হোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ এবং পরবর্তীতে পেশাগত উন্নয়নের লক্ষ্যে অনুদানের জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন।

আবেদনের যোগ্যতা: মাধ্যমিক পর্যায়ে কর্মরত একজন পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন বিষয় যেমন- সামাজিক অধ্যয়ন, নাগরিক শিক্ষা, গণিত, বিদেশি ভাষা হিসেবে ইংরেজি এবং বিজ্ঞান বিষয়ে পাঁচ বা ততোধিক বছর ধরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশের নাগরিক এবং যার বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে, নেতৃত্বের গুণাবলীর প্রামাণ্য দলিলপত্রাদি এবং যিনি ফুলব্রাইট টিইএ প্রোগ্রাম শেষে দেশে ফিরে কমপক্ষে আরও ৫ বছর শিক্ষকতা পেশায় থাকার প্রতিশ্রুতি দেবেন, ইংরেজিতে কথা বলা ও লেখায় দক্ষতা থাকতে হবে।

দক্ষতা: এ প্রোগ্রামের জন্য ইংরেজি ভাষায় ভালোমানের দক্ষতা লাগবে। কারণ এ প্রোগ্রামের আওতায় যারা যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন তাদের একাকী চলাফেরা, নিজের কাজগুলো করতে হবে। ইউনিভার্সিটি ও পেশাগত আলোচনায় নিজের ধারণা ও মতামত সুস্পষ্ট ও কার্যকরভাবে প্রকাশ করতে হবে। সাধারণ মানের কম্পিউটার দক্ষতা থাকতে হবে। যাতে কম্পিউটারে ওয়ার্ড প্রসেসিং বা লেখার কাজ করতে পারা যায়। ফাইল ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক জ্ঞান এবং মাইক্রোসফট অফিস সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

in

আবেদনপত্রে যা থাকবে: একটি পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র জমা দিতে হবে, যার মধ্যে থাকবে-
১. একটি পূরণকৃত পূর্ণাঙ্গ আবেদন ফরম (অনুগ্রহ করে নির্দেশাবলীর পৃষ্ঠাগুলো সংযুক্ত করবেন না)।
২. একটি বর্তমান অবস্থা উল্লেখপূর্বক সর্বশেষ হালনাগাদ করা সিভি।
৩. সুপারভাইজার কর্তৃক পূরণকৃত একটি প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও রেফারেন্স ফরম (আইএসআরএফ)।
৪. একটি অনুমোদিত ছুটির আবেদন ফরম (এলএএফ)।
৫. আবেদনকারীর পাসপোর্টের ফটোকপি (তথ্য আছে এমন পৃষ্ঠাগুলো)।
৬. একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৭. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের অনুলিপি (শুধু স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর মার্কশিট বা ট্রান্সক্রিপ্ট)।

আইইএলটিএস: বাছাইকৃত প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা শিক্ষকদের টোফেল বা আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে হবে। আইইএলটিএসে ৬.০ বা তারচেয়ে বেশি স্কোর কিংবা ইংরেজি ভাষার অন্য কোন পরীক্ষায় সমমানের স্কোর থাকতে হবে। যাদের ইংরেজি ভাষার ওপর দেওয়া পরীক্ষায় বৈধ স্কোর রয়েছে অর্থাৎ স্কোরের মেয়াদ শেষ হয়নি, তাদের নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার দরকার নেই। আমেরিকান সেন্টার প্রয়োজন অনুযায়ী সব পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে।

সাক্ষাৎকার: বাছাইকৃত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে। এই সাক্ষাৎকার ইংরেজিতে নেওয়া হবে।

আবেদনের নিয়ম: অনলাইনে আবেদন করার ফরমগুলো পেতে লিঙ্কে ক্লিক করুন।

যেভাবে পাঠাবেন: অনলাইনের আবেদন ফরমগুলো যথাযথভাবে পূরণ করে পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র এবং আবেদনে উল্লেখিত তথ্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (সফটকপি) মিস তানিয়া শহীদ বরাবর ShahidTX@state.gov ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে পারেন। অথবা পূরণকৃত ও তথ্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র (হার্ডকপি) বড় খামে ভরে খামের উপর attention: Ms. Tahnia Shahid, Public Affairs Section লিখে বারিধারার জাতিসংঘ রোডে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স সেকশনের সিকিউরিটি গেটে জমা দিতে পারেন।

জমা দেওয়ার সময়: আগামী ১০ জুন ২০২০ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হবে। আগে যারা আবেদন করেছিলেন, তারা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষে জানানো হবে।

যোগাযোগ: প্রোগ্রাম সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিস তানিয়া শহীদের সাথে ই-মেইল ShahidTX@state.gov অথবা ফোন (৮৮০) (২) ৫৫৬৬-২০০০ নম্বরে যোগাযোগ করুন।

সুত্রঃ জাগো নিউজ

বাংলাদেশ/দৈনিক২৪