আম্ফান পর্যবেক্ষণে ব্যবহার হয়নি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

দৈনিক২৪, নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চল। আম্ফানের প্রভাব দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পড়বে-এমন পূর্বাভাস আগে থেকেই দিয়ে আসছিল আবহাওয়া অধিদফতর। তবে এর প্রভাব শুধু দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যেই থেমে থাকেনি। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহী বিভাগেও এর বেশ প্রভাব পড়েছে।

আম, লিচুসহ অন্যান্য ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের নিজস্ব ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ থাকতেও যথাযথভাবে এর পূর্বাভাস কেন দেয়া সম্ভব হলো না?


ের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ব্যবহার সম্পর্কে উত্তর জানার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, আম্ফান পর্যবেক্ষণে দেশের একমাত্র স্যাটেলাইটের ব্যবহার করা হয়নি।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাজ আলাদা। ওটা হলো কমিউনিকেশন (যোগাযোগ) স্যাটেলাইট। সংবাদ, যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার হয়। এটা আবহাওয়া-সংক্রান্ত স্যাটেলাইট না।’ এজন্য নিজস্ব নয়, আম্ফান পর্যবেক্ষণে অন্য দেশের স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরকে।

গতবছর ঘূর্ণিঝড় ফণী যখন দেশে আঘাত হানে, তখনও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছিল। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ তখন বলেছিলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশের মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিল। ইতোমধ্যেই ২০০ কিলোমিটার বেগে ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশে আঘাত হানে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজ ভোর থেকেই বাংলাদেশের কিছু কিছু এলাকায় ফণী আঘাত হানে। তবে দুর্বল হয়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করার পথে। আমরা মহাশূন্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই যে আমাদের ঘূর্ণিঝড়ের, গভীর সমুদ্রে যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হচ্ছে প্রায় ২০০০ কিলোমিটার দূরে, সেইটার শুরু থেকেই কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের দেশের আবহাওয়া অধিদফতর খবর সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল। আজকে এই স্যাটেলাইটের কারণেই কিন্তু আমরা আগাম সতর্কতার তথ্য পেয়েছিলাম বিধায় আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে আমরা এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম।’

হানিফের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়া বিভাগের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদের বক্তব্য নিয়েছিল বিবিসি বাংলা। তখন শামসুদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট একটি যোগাযোগ স্যাটেলাইট। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কখন ব্যবহৃত হয় যখন আমরা যে পূর্বাভাস প্রস্তুত হয়ে গেল, যখন ঘূর্ণিঝড় আসে তখন বিদ্যুৎ চলে যায়, তখন স্বাভাবিক যোগাযোগ থাকে না, সেইসময় আমাদের প্রস্তুতকৃত পূর্বাভাসটি রিমোট আইল্যান্ড বা প্রত্যন্ত জায়গায় পৌঁছানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। হয়তো সে সময় বিদ্যুৎ থাকবে না, স্বাভাবিক রেডিও যোগাযোগ থাকবে না, তখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তথ্য পৌঁছানোর কাজ করা হবে। এটা আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে।’

অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দিয়ে মেঘ পর্যবেক্ষণের যোগাযোগ হয় না, এটা দিয়ে ব্রডকাস্টিং হয়। একসময় এটি কাজে লাগবে কারণ যখন যোগাযোগ ভেঙে পড়বে তখন এটি ছাড়া কোনো কাজ করা যাবে না বলেছিলেন শামসুদ্দিন।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আম্ফানের তাণ্ডবে সারাদেশে প্রায় ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার আগের দিন থেকে বিদ্যুৎহীন রয়েছেন দেশের ২৫টি জেলায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ।
উপকূলীয় অঞ্চলের বাইরে যেসব জেলায় সাধারণত ঘূর্ণিঝড় হয় না, সেসব জেলাতেও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলার পানের বরজ থেকে শুরু করে রাজশাহীতে মৌসুমি ফল আম এবং উত্তরের অন্য জেলাগুলোতে ধান ও সবজির অনেক ক্ষতি হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে দেশের ৪৬টি জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব জেলায় বিভিন্ন হারে মোট এক লাখ ৭৬ হাজার ৭ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

চারটি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে এক হাজার ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান।

সুত্রঃ জাগো নিউজ

বাংলাদেশ/দৈনিক২৪