নোয়াখালীর তরুণ ইউটিউবারা একসাথে এগিয়ে যাওয়ার গল্প!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২১

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ MH Sakib

বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই ইউটিউবের মাধ্যমে নিজের মেধার বিকাশের সাথে সাথে অর্থ উপার্জন করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে রয়েছে হাজারো ইউটিউব চ্যানেল। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরণের সিরিয়াস, মজার, হাস্যরসাত্মক এবং সমালোচনামূলক ভিডিওসহ শর্টফিল্ম, মিউজিক ভিডিও আপলোড করা হয় এই চ্যানেলগুলি থেকে। এখন অনলাইন জগৎটা অনেকটাই ভিডিওর দখলে। আগে মানুষ অনলাইনে যেকোনো তথ্য পাবার জন্য লেখা পড়তো, বড় বড় ব্লগ পোস্ট পড়তো, গল্পের বই পড়তো। কিন্তু এখন অনেকেই পড়ার থেকে সে সম্পর্কে ভিডিও দেখতে বেশি ভালোবাসে। এজন্যই ইউটিউব প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশ করে অনেক ইউটিউবার বেশ ভালো আয় করে থাকেন। বাংলাদেশেও বর্তমানে বেশ কয়েকজন ইউটিউবার রয়েছেন যারা ভালো মানের ভিডিও নিয়মিত তাদের চ্যানেলে আপলোড করে থাকেন।


নোয়াখালী ইউটিউব ফ্যামিলি শুরু হয় ২০১৭ সালের দিকে। কিছু সমস্যা কারণে সব বন্ধ হয়ে যায়। আবার নোয়াখালী ইউটিউব ফ্যামিলি নিয়ে কাজ শুরু করে ১৮-৮-২০২০। পাপ্পু, মাহমুদ, রাকিব, রায়হান, শামিম সহ আরো অনেকে

দরিদ্র ভিশনের পাপ্পু বললেন: আমরা এ গ্রুপটা শুরু করেছিলাম ২০১৭ সালের শুরুর দিকে কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় আমরা সেটা ধরের রাখতে ব্যর্থ হই।
আমরা নোয়াখালী ইউটিউব এক আছি সব সময়ে এক থাকবে। নোয়াখালীকে আমরা সারা বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরতে চাই। যারাই ইউটিউব প্লাটফর্মে কাজ করতে ইচ্ছে হবে, আমরা সবাইকে হেল্প করবে।

প্রাংকি বয়েজের মাহমুদ বললেন : আপনারা জানেন আমি ইসলামিক, সমাজ সচেতনতা ও শিক্ষামূল ভিডিও বানাই। এরকম গেট টু গেদার আর মিটাপের দ্বারা ইউটিউবারদের মাঝে পরস্পর ভালোবাসা ও হৃদ্যতা তৈরি হয়। এমন কমিউনিটির দ্বারা নতুনরা কাজের উদ্দীপনা পাবে। নোয়াখালী ইউটিউবারদের নিজেদের কন্টেন্ট-এর কোয়ালিটি বৃদ্ধি জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। স্টোরি মেকিং, স্ক্রিপ্টিং, একটিং, এডিটিং এ দিন দিন নিজেদের ইমপ্রুভ করা লাগবে। কেউ কোন সমস্যায় পড়লে গ্রুপে যারা অভিজ্ঞ তাদের থেকে নিঃশর্ত ও নিঃস্বার্থ ভাবে হেল্প নিবে।

ইউনিক বয়েজের রাকিব বলেন: আমরা নোয়াখালী সকল ইউটিউবারকে নিয়ে কাজ করার প্ল্যান করছি। যারা ইউটিউব সম্পর্কে ধারণা কমে রাখে তাদের আমরা তাদের হেল্প করছি। তাদের সব ধরনের সহযোগীতা করছি।

কনটেন্ট তৈরীর সময়ের মজার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তারা বলেন, ক্যামেরার সামনের মানুষ আর ক্যামেরার পেছনের মানুষের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রাঙ্ক ভিডিও তৈরীর সময় মাঝে মাঝে পাবলিক রিএকেশন অনেক মজা দেয়। যা থেকে আমরা প্রতিনিয়ত শিখছি। বাইরে কাজ করার সময় শুধু মজা নয় মাঝে মাঝে চরম বাজে অভিজ্ঞতার সম্মুখীনও হতে হয়েছে। তবুও কাজের স্বার্থে সেই অভিজ্ঞতাকে হজম করছি প্রতিনিয়ত। আগের থেকেও অনেক ভালো ভিডিও কোয়ালিটি আর মজার মজার কনটেন্ট নিয়ে এখনও আমাদের ভিউয়ারদের মুখে হাসি ফোটানোর প্রচেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছি। যদিও কনটেন্ট ভালো হওয়ার পরও সাবস্ক্রাইবার তুলনা মূলক কম থাকায় সব ইউটিউব ভিউয়ারদের কাছে হয়তো আমাদের ভিডিওটা ঠিক ভাবে পৌছায়না, কিন্তু আপনাদের দোয়ায় আর সহযোগিতায় সামনে অনেক ভালো কিছু আশা করছি।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। দেশের অন্যান্য ইউটিউবারদের মতো উজ্জল সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে চান তারা।

বাংলাদেশ/নিজস্ব/প্রতিবেদক