মূল সংবাদে যান
দৈনিক২৪ দৈনিক২৪

প্রেমের কৌশল জানতে এআইয়ের দ্বারস্থ হচ্ছেন ভারতীয়রা, যা জিজ্ঞেস করছেন

দৈনিক ২৪ ডেস্ক

প্রকাশ:

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

প্রেমের প্রস্তাব দেয়া থেকে শুরু করে ডেটিং প্রোফাইল সাজানো, এমনকি সঙ্গীর পাঠানো রহস্যময় বার্তার অর্থ খুঁজতেও ভরসা করছেন অনেকে এআইয়ের ওপর।

কাউকে পছন্দ হলে কী বলবেন, প্রথম ডেটে কোথায় যাবেন কিংবা সম্পর্কের জটিলতা কীভাবে সামলাবেন; এসব নিয়ে মনে মনে প্রস্তুতি নেয়া বা বন্ধুর পরামর্শ চাওয়া নতুন কিছু নয়। তবে এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রেমের প্রস্তাব দেয়া থেকে শুরু করে ডেটিং প্রোফাইল সাজানো, এমনকি সঙ্গীর পাঠানো রহস্যময় বার্তার অর্থ খুঁজতেও ভরসা করছেন অনেকে এআইয়ের ওপর।

প্রেমের দুনিয়ায় এআই এখন নতুন ‘উইংম্যান’, পরামর্শদাতা ও মনের কথা বলার সঙ্গী। অর্থাৎ, প্রেমের প্রজাপতি পেটে ওড়ার অনুভূতিটা নিজের থাকলেও, প্রথম কথাটি কীভাবে শুরু হবে, সেই পরিকল্পনা হয়তো করে দিচ্ছে চ্যাটবট।

ভারতের ডেটিং অ্যাপ গ্লিডেন ও গবেষণা সংস্থা ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, এআইয়ের সাহায্যে প্রেমের কৌশল বাড়ানোর প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। জরিপে ১ হাজার ৫০০-এর বেশি উত্তরদাতার মতামত নেয়া হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

জরিপ অনুযায়ী, গত ১২ মাসে কথোপকথনভিত্তিক এআই ব্যবহার করে প্রেমের কৌশল উন্নত করেছেন দিল্লির ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা। মুম্বাইয়ে এই হার ৪৯ শতাংশ, হায়দরাবাদে ৪৮ শতাংশ এবং বেঙ্গালুরুতে ৪৭ শতাংশ।

শুধু প্রেমের প্রস্তাব দেয়ার কৌশল নয়, ডেটিং অ্যাপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচিতি বা বায়োডাটা আকর্ষণীয় করে তুলতেও এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন অনেকে।

জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে নিজেদের ডেটিং বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলের বিবরণ আরও কোয়ালিটিফুল করতে এআই ব্যবহার করেছেন দিল্লি ও মুম্বাইয়ের ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা। বেঙ্গালুরুতে এ হার ৩৫ শতাংশ এবং হায়দরাবাদে ২৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে লিখিত কথোপকথন আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এআই ব্যবহার করেছেন দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত গ্লিডেন–ইপসোসের পৃথক একটি জরিপে নারী-পুরুষের এআই ব্যবহারের চিত্রও উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে প্রেমের ক্ষেত্রে নিজের আকর্ষণ প্রকাশের কৌশল উন্নত করতে এআই ব্যবহার করেছেন ৬৫ শতাংশ পুরুষ ও ৬০ শতাংশ নারী।

প্রথম ডেটের পরিকল্পনাতেও পিছিয়ে নেই এআই। কোথায় দেখা করা যায় কিংবা কী ধরনের কার্যক্রম করা যেতে পারে, সে বিষয়ে পরামর্শ নিতে এআই ব্যবহার করেছেন ৬৪ শতাংশ পুরুষ ও ৬১ শতাংশ নারী।

প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার শুধু প্রোফাইল সাজানো বা বার্তা লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আবেগ, অনিশ্চয়তা এবং সম্পর্কের জটিলতা নিয়েও চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলছেন অনেকে।

ডেটিং অ্যাপ এইসলের একটি পৃথক প্রতিবেদনে শহুরে ভারতের ৮ হাজার ২৪০ জন অবিবাহিত মানুষের মতামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, নিজের অনুভূতি ও সম্পর্ক নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা আলোচনা করতে এআইয়ের সাহায্য নেন ৫৩.১ শতাংশ নারী।

অন্যদিকে, জেনারেশন জেড বা জেন-জেডের ৩৭.৩ শতাংশ জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সঙ্গীর পাঠানো কোনো অস্পষ্ট বা বিভ্রান্তিকর বার্তার অর্থ বুঝতে তারা এআইয়ের সাহায্য নিয়েছেন।

তবে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একধরনের দ্বৈত মনোভাবও দেখা যাচ্ছে। এইসলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪.৩ শতাংশ উত্তরদাতা নিজেরা এআই ব্যবহার করলেও তাদের সম্ভাব্য সঙ্গী একই কাজ করলে তারা অস্বস্তি বোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।

অর্থাৎ, নিজের প্রেমের জীবন গুছিয়ে নিতে এআইয়ের সাহায্য গ্রহণযোগ্য মনে হলেও, অপর পক্ষের ক্ষেত্রে সেই গ্রহণযোগ্যতা সব সময় সমান নয়।

ভারতের বিভিন্ন শহরে প্রেমের ক্ষেত্রে এআইয়ের গ্রহণযোগ্যতাও একরকম নয়। এইসলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরভেদে এআই নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা, আস্থা ও আপত্তিতে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য।

বেঙ্গালুরুতে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এআই দিয়ে লেখা বার্তা শনাক্ত করা সম্ভব। তবে তাদের মধ্যে ৮৮ শতাংশের বিশ্বাস, এআইয়ের সাহায্যে তৈরি প্রথম বার্তা ডেটিংয়ের জগতে ক্রমেই অনিবার্য হয়ে উঠবে।

দিল্লিতে পরিস্থিতি আরও চমকপ্রদ। সেখানকার ৪০.৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, বাস্তব জীবনে ডেটে কথোপকথনের তুলনায় এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথন তাদের কাছে বেশি অর্থবহ মনে হয়।

মুম্বাইয়ের মানুষ অবশ্য নিজেদের অনুভূতি ও সহজাত বিচারবুদ্ধির ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন। সেখানকার ৬৯.১ শতাংশ উত্তরদাতা এআইয়ের পরিবর্তে নিজেদের অন্তর্দৃষ্টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

পুনেতে এআই হয়ে উঠছে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর হাতিয়ার। শহরটির ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, এআইয়ের উৎসাহমূলক পরামর্শ তাদের ডেটিংয়ের আত্মবিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।

অন্যদিকে, হায়দরাবাদের ডেটারদের কাছে বাস্তবসম্মত ছবি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানকার ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা সম্পাদনাবিহীন বা স্বাভাবিক ছবি পছন্দ করেন। আর ৪৫.৫ শতাংশ জানিয়েছেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি দেখলে তারা সম্পর্ক বাতিল করে দিতে পারেন।

কলকাতার চিত্র আবার ভিন্ন। সেখানকার প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে এআইকে প্রেমের ক্ষেত্রে ব্যবহার না করার পক্ষে জোরালো মনোভাব দেখা গেছে।

সব খবর দেখুন
মূলপাতায় ফিরে যান

সংবাদ খুঁজুন