মূল সংবাদে যান
দৈনিক২৪ দৈনিক২৪

পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পলায়ন ঘিরে উত্তেজনা, আর্জেন্টাইন কূটনীতিককে তলব করল ব্রাজিল

দৈনিক ২৪ ডেস্ক

প্রকাশ:

মায়ামিতে ওপা লকা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিমান থেকে নেমে আসছেন ফ্লাভিও বলসোনারো সংগৃহীত
মায়ামিতে ওপা লকা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিমান থেকে নেমে আসছেন ফ্লাভিও বলসোনারো

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রথমে আর্জেন্টিনা এবং পরে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো।

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে আর্জেন্টিনার শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে ব্রাজিল। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর্জেন্টিনার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মারিয়া এমিলিয়া কর্টেসকে তলব করে।

সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। তবে বলসোনারোর আর্জেন্টিনায় পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ব্রাজিলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অনুরোধ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কুইর্নো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

বলসোনারোর দেশত্যাগের পরিস্থিতি ব্রাজিলের সদ্য পুনর্নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং আর্জেন্টিনার লিবার্টারিয়ান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের মধ্যকার সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।

রোববারের নির্বাচনের পর বলসোনারোকে তার পাসপোর্ট জমা দেয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। চলমান একটি আইনি মামলার অংশ হিসেবে তাকে দেশেই অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কর্মকর্তারা।

‘ব্যাংকো মাস্টার কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিত অর্থ পাচারসংক্রান্ত একটি তদন্তের অংশ তিনি। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ব্যাংকো মাস্টারের সাবেক প্রধান ড্যানিয়েল ভোরকারো বলসোনারোকে কয়েক মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন কি না। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের অর্থায়নের জন্য এ অর্থ দেয়া হয়েছিল।

তবে কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছেন তিনি। ২০১৯ সাল থেকে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বলসোনারো এ বছর তার বাবার রাজনৈতিক আন্দোলন লিবারেল পার্টির ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।

নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় উঠলেও তিনি ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। রোববারের নির্বাচনে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন লুলা। এর মধ্য দিয়ে বিরতিসহ চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ নিশ্চিত করেন তিনি।

তবে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলসোনারো। যদিও তার দল লিবারেল পার্টি লুলার বিজয় স্বীকার করেছে। এর পরিবর্তে নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণহীন অভিযোগ তুলেছেন বলসোনারো। বুধবার মায়ামিতে পৌঁছানোর পর নিজেকে ব্রাজিলের ‘বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ বলেও ঘোষণা করেন তিনি।

বলসোনারো, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে ব্রাজিল থেকে উত্তর আর্জেন্টিয়া হয়ে একটি চার্টার্ড বিমানে ওঠেন। বিমানটি ইকুয়েডর হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই- দুজনই ডানপন্থি নেতা এবং প্রকাশ্যে বলসোনারোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

পরে সহায়তার জন্য মিলেইকে ধন্যবাদ জানান ব্রাজিলের পরাজিত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। তবে কী ধরনের সহায়তা দেয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বলসোনারোর এই যাত্রাকে ‘উদ্ধার অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ওই মুখপাত্র বলেন, ‘কমিউনিজমের থাবা থেকে পালিয়েছেন তিনি, যে কমিউনিজম সব বিরোধী নেতাকে কারাবন্দি করতে চায়।’ ট্রাম্পও রোববারের নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ফলাফল ঘোষণার পর কোনো পক্ষ নেয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

এর আগে ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেয়ার ঘটনায় সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জইর বলসোনারো দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সব খবর দেখুন
মূলপাতায় ফিরে যান

সংবাদ খুঁজুন