মূল সংবাদে যান
দৈনিক২৪ দৈনিক২৪

যে কারণে মানিক পশারীর জানাজায় যাননি মুক্তিযোদ্ধারা

দৈনিক ২৪ ডেস্ক

প্রকাশ:

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে পিরোজপুরে মানববন্ধন করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর সদর উপজেলা কমান্ড।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

এতে পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আহমেদ শহিদুল হক অভিযোগ করেন, মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুরে আসার দিন পুষ্পস্তবক নিয়ে সদর উপজেলা পরিষদে গেলে তার সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ সময় ‘মব’ সৃষ্টি করে তার কাছ থেকে পুষ্পস্তবক ছিনিয়ে নিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতি দেখে রাতের দাফনেও মুক্তিযোদ্ধারা যাননি।

গার্ড অব অনারের সময় কেন মুক্তিযোদ্ধারা যাননি—এমন প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শহিদুল হক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুরে আসার প্রথম দিনই আমি পুষ্পস্তবক নিয়ে সিও অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার সঙ্গে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তারা আমার সঙ্গে মব তৈরি করে পুষ্পস্তবক ছিনিয়ে নিয়ে বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয়। যারা এ কাজ করেছে, আমি তাদের নাম জানি না। এ ধরনের পরিস্থিতি দেখে পরে আমরা সব কর্মসূচি বাদ দিই। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা রাতে মানিক পশারীর দাফনেও যাইনি।

মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেছে পিরোজপুর জামায়াতে ইসলামী, পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী এবং একাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শহিদুল হক বলেন, তিনি তৎকালীন সুন্দরবন এলাকার ভেতর দিয়ে নৌকা চালিয়ে শরণার্থী এবং প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতে নিয়ে যাওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। আমার বড় ভাই শহীদ ফজলুল হক খোকন প্রথম তাকে এবং তার চাচা রেয়াজ উদ্দিন পশারীকে এ কাজে নিয়োগ করেন। আমার ভাই শহীদ হওয়ার পর মেজর জিয়াউদ্দিন, যিনি সুন্দরবনে অবস্থানকালে সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, তিনিও রেয়াজ উদ্দিন পশারী ও মানিক পশারীকে তার অধীনে কাজ করার জন্য অনুরোধ করেন। এভাবেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮০ সালে প্রথম মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরির সময় আমি পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তৎকালীন মহকুমা ইউনিটের দায়িত্বে ছিলাম। তখন তাকে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে সহযোগিতা করি। এভাবেই চলছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার ক্যাটাগরি তুলে দিয়ে সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই হিসেবেই তিনি গেজেটভুক্ত হন।

কারও আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজপত্র ও তথ্যপ্রমাণসহ আবেদনের আহ্বান জানিয়ে আহমেদ শহিদুল হক বলেন, কেউ যদি দাবি করেন মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা নন, তাহলে তার গেজেট প্রণয়নকারী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যপ্রমাণসহ আবেদন করে গেজেট বাতিলের দাবি জানাতে পারেন। এভাবে ফেসবুকে ও পত্রিকায় বিষয়টি ভাইরাল করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য নয়।

দুজন মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করেছেন এবং বলেছেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহমেদ শহিদুল হক বলেন, ওই দুজন মুক্তিযোদ্ধা কি প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা, তা নিয়েই আমার প্রশ্ন।

পরে তাদের নাম বলা হলে তিনি জানান, আব্দুস সালাম বাতেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। আরেকজন মির্জা জহিরুল হক গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা নন; তার ভাই মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন একজন রাজনৈতিক নেতাও। তিনি কী কারণে রাজনৈতিকভাবে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, তা আমরা তার কাছে জানতে চাইবো।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সেনা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলাইমান মল্লিক বীর প্রতীক, জেলা কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য রাজ্জাক সরদার, জেলা কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান ধরানী, সদর উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ, সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী সরদারসহ অন্য মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা।

বক্তারা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, মানিক পশারী একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক না ছড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ জানানো উচিত।

সব খবর দেখুন
মূলপাতায় ফিরে যান

সংবাদ খুঁজুন